বৈশাখ মানেই তপ্ত রোদ আর দমবন্ধ করা গরম। চলতি গরম আবহাওয়ার মধ্যে ঠিক বিপরীতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দেখা মিলেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। খরতাপের মাঝেই ভোরবেলা নেমেছে ঘন কুয়াশা, ছড়িয়ে পড়েছে শীতের মৃদু অনুভূতি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে যায় কুয়াশার চাদরে। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন ছিল যে, অল্প দূরের বস্তু দেখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে, কুয়াশার প্রভাবে সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে দিনের আলোতেই হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, আজকের এমন দৃশ্য একেবারেই অচেনা। তবে এই অস্বাভাবিক আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ হতে দেখা গেছে তাদের। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এমন হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগবালাই বাড়তে পারে।
সকালে হাঁটতে বের হওয়া বা কাজে যাওয়া মানুষজন বলছেন, বৈশাখে এমন কুয়াশা আগে কখনো দেখেননি। অনেকেই একে প্রকৃতির অদ্ভুত রূপবদল হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব বলেও মন্তব্য করছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে কুমিল্লায় তাপমাত্রা ২৬ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য এবং জলীয় বাষ্পের দ্রুত ঘনীভবনের ফলে এই কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের কুয়াশাকে ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে সাপ্তাহিক ‘আমাদের নাঙ্গলকোট’ পত্রিকার সম্পাদক বেলাল হোসেন রিয়াজ বলেন, ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাইরে বের হয়ে চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকতে দেখে বিস্মিত হয়েছি। এই সময়টায় যেখানে প্রচণ্ড গরম থাকার কথা, সেখানে উল্টো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, ভোরের ঘন কুয়াশা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হতে পারে। শুক্রবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।