পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাসরত পাকা স্থাপনা রাতের আঁধারে ভেঙে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউপির সোনখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মাছের ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে হামলা ও দখল উচ্ছেদের ভয়ে বাড়িতে যাতায়াত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটির।
জানা যায়, ২০০৬ সালে বৌলতলী ও হরেন্দ্রপুর মৌজার ৩১৮১ নম্বর দাগে ১ একর ভূমি বন্দোবস্ত পান সুফিয়া বেগম। তার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিকানা লাভ করেন কন্যা সখিনা বেগমসহ আরও অনেকে। বন্দবস্ত পাওয়া জমিতে বসতবাড়ি, পাকা স্থাপনা ও মাছের ঘের নির্মাণ করেন ভূমির প্রকৃত ওয়ারিশরা। সেখানে বসবাস করছিলেন সুফিয়া বেগমের স্বজনরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে খালি বাড়ি পেয়ে হামলা চালিয়ে বসবাসরত পাকা স্থাপনার দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়।
এ সময় টিনশেডের পাকা স্থাপনায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং চালের টিন ও জানালা ভাঙচুর করেন স্থানীয় তুহিন মুন্সি ও তার সহযোগীরা, এমন অভিযোগ সখিনা বেগমের। এ ছাড়া একই সময়ে বাড়ির ঘের থেকে মাছ শিকার করে নিয়ে যায় এই প্রভাবশালীরা।
ভূমির মালিক দাবি করা সখিনা বেগম বলেন, ৩০ বছর ধরে এই জমিতে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে আমরা বসবাস করে আসছি। আমার ছেলে আনোয়ার হোসেন আইন পেশায় জড়িত। কিন্তু সে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এ কারণে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দফায় দফায় আমার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এমন কি কুয়াকাটা ঘুরতে গেলে সেখানেও তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে।
তার অভিযোগ, সব শেষে বৃহস্পতিবার রাতে আমার পাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলেছে প্রভাবশালী ইউসুফ মুন্সির নেতৃত্বে আলমগীর, মিরাজ, হারুন, কাউসার, তুহিন ও ইব্রাহিম মিলে আমার পাকা স্থাপনা ভাঙচুর করে। এ সময় আরও অনেকে ছিল কিন্তু তাদের নাম জানি না। এই প্রভাবশালীরা আমার ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা দাবি করছে। এনিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও আদালত অমান্য করে তারা দখল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
এ বিষয়ে জানতে তুহিন মুন্সির সঙ্গে কথা হলে তিনি ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার কথা অস্বীকার করে বলেন, এটা রাজনৈতিক কোনও বিষয় নয়। আর ঘর কারা ভেঙেছে আমাদের জানা নেই।
মহিপুর থানার ওসি মো. শামিম হাওলাদার জানান, বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।
