বগুড়ায় নবজাতকের গলাকাটা মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নবজাতকের মা নিপা খাতুন (১৮) ও বাবা দুলাল প্রামাণিককে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার ( ৯ মে) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
আটক নিপা খাতুন জেলার গাবতলী উপজেলার উনচুরকি গ্রামের আলমাস ফকিরের মেয়ে ও দুলাল প্রামাণিক তেলিহারা উত্তরপাড়ার নুর আলমের ছেলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭/৮ মাস আগে শহরের নারুলী এলাকার শুকুর আলীর সঙ্গে নিপা খাতুনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর আড়াই মাস আগে দুলাল প্রামাণিকের সঙ্গে নিপা খাতুনের বিবাহ হয়। বিবাহের পর তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ভালোই চলছিল। শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরে নবজাতকের মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় উত্তেজিত জনতা নিপা খাতুন ও দুলালকে সন্দেহ করলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনা শিকার করে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, শুক্রবার বিকালে দুলালের বাড়ির বাথরুমে নিপা নবজাতকটি প্রসব করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা তখনই নবজাতকটিকে ধারালো ব্লেড দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে রেখে দেয় এবং রাতে পুকুরে মরদেহটি ফেলে দেয়। শনিবার সকালে আটক দুলালই প্রথম মরদেহ দেখে লোকজনকে ডাকাডাকি করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার সঙ্গে দুলাল ও নিপা খাতুন জড়িত থাকায় স্থানীয়রা পুলিশের সামনে তাদের উপর চড়াও হয়ে চড়থাপ্পড় মারতে থাকে। এসময় পুুলিশ তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, নবজাতকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিপা খাতুন ও দুলাল প্রামাণিককে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
