২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে জুলাই আন্দোলনকারীরা বগুড়া সদর থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় সদর থানার বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম পুড়ে যায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে থাকা কিছু দুর্বৃত্ত থানায় প্রবেশ করে অস্ত্রাগার থেকে বিভিন্ন ধরনের ৩৯টি অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ১৭টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও বাকি ২২টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে ২২টি এখনও উদ্ধার না হওয়ায় সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এসব অস্ত্র ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
জানা গেছে, বগুড়া সদর থানা থেকে লুট হওয়া ৩৯টি অস্ত্রের মধ্যে ছিল ৫টি পিস্তল, ১২টি রাইফেল, ৫টি এসএমজি ও এলএমজি এবং ১৭টি শটগান। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। বাকি ২২টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই থেকে বগুড়ায় আন্দোলন শুরু হয়। ৫ আগস্ট বিকেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে বগুড়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাধারণ মানুষ যোগ দেয়। এ সময় উচ্ছৃঙ্খল দুর্বৃত্তরা সদর থানা, সদর ভূমি অফিস, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়।
দুর্বৃত্তরা শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত সদর থানায়ও হামলা চালায়। সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ সদস্যরা গুলি করতে করতে থানা ত্যাগ করেন। পরে আন্দোলনকারীরা সদর থানায় প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা থানার অস্ত্রাগার থেকে রাইফেল, শর্টগান, চায়নিজ রাইফেল, এসএমজি ও এলএমজিসহ ৩৯টি অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়।
বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ বলেন, ‘বগুড়া সদর থানা থেকে দুর্বৃত্তরা যে অস্ত্রগুলো লুট করে নিয়ে গেছে, তার অধিকাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। বিষয়টি উদ্বেগের। এসব অস্ত্র দিয়ে অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করতে পারে। তাই দ্রুত অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন বলেন, বগুড়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। যে অস্ত্রগুলো এখনও উদ্ধার হয়নি, সেগুলোর বিষয়ে জেলা পুলিশকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, যেকোনো মূল্যে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা সভায় বগুড়ার বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় এসব অস্ত্র অপরাধীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, আমি কয়েক মাস হলো সদর থানায় যোগদান করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট বগুড়া সদর থানা থেকে ৩৯টি অস্ত্র লুট হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত ১৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। বাকি অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
