আপনার বাইকের সিসি কত? জেনে নিন বছরে কত টাকা কর দিতে হতে পারে

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

দেশে যাতায়াতের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম মোটরসাইকেল এখন করের আওতায় আসার অপেক্ষায়। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর সিসিভিত্তিক অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এই প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নতুন এই প্রস্তাবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে। ১১০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেলগুলোকে এই করের আওতামুক্ত রাখার চিন্তা করছে সরকার। অর্থাৎ, যারা ছোট বাইক ব্যবহার করেন, তাদের অতিরিক্ত এই কর দিতে হবে না। তবে ১১১ সিসি থেকে শুরু করে উচ্চ ক্ষমতার সব বাইকের ক্ষেত্রেই সিসি অনুযায়ী বার্ষিক ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর নির্ধারণ করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত করের হার অনুযায়ী, ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতার বাইকের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। সরকারের ধারণা, এই খাত থেকে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়তি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের নিবন্ধন ফির পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। নতুন এই অগ্রিম আয়কর কার্যকর হলে তা মালিকদের জন্য বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে যারা রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি সেবা বা জীবিকার প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

তবে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, যানবাহনের মালিকরা এই অগ্রিম কর পরে তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চালু থাকলেও প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে এই কর কাঠামোর অধীনে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত