নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ১০:২০ এএম

নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানে অবস্থিত অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার ‘ভারত মন্ডপম’-এ আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) থেকে শুরু হয়েছে ব্রিকস দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পটভূমি তৈরিতে এই বৈঠক আয়োজন করা হলেও, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এটি এখন বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টায় (জিএমটি ০৪:৩০) বিদেশি প্রতিনিধিদের আগমনের মধ্য দিয়ে বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিনভর বিভিন্ন সেশনের পর সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ দুপুর ১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘সেবা তীর্থ’ থেকে একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে আগত বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেবেন।

বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, দক্ষিণ আফ্রিকার রোনাল্ড লামোলা এবং ব্রাজিলের মাউরো ভিয়েরা। বিশেষ নজর কাড়ছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও জোটের নতুন সদস্য ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনোর উপস্থিতি। তবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কারণে তিনি নিজ দেশেই অবস্থান করছেন; তার পরিবর্তে ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং চীনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন’ এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে, তবে বাস্তবে ইরান যুদ্ধই পুরো সম্মেলনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আজ যুদ্ধের ৭৬তম দিনে পা রাখায় এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল সীমিত থাকায় ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো মারাত্মক জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। গত এপ্রিলে এই ইস্যুতে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে মতবিরোধের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা এবারের বৈঠকেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নয়াদিল্লিতে যখন ব্রিকস সম্মেলন চলছে, ঠিক সেই সময়েই বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো চীনকে ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইবেন, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। অন্যদিকে, গাজা ইস্যুতে ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং জোটের ভেতরে নতুন সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বৈরথ ব্রিকসের ঐক্যের সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের এই বৈঠকটি কেবল একটি প্রস্তুতিমূলক সভা নয়, বরং এটি জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি পরীক্ষার ক্ষেত্র। জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে ব্রিকস সদস্য দেশগুলো আজ এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। আগামী সেপ্টেম্বরের শীর্ষ সম্মেলনে কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, তার পথরেখা নির্ধারিত হবে নয়াদিল্লির এই দুই দিনের আলোচনার মাধ্যমেই।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত