সিলেট টেস্টে তৃতীয় দিনশেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড গড়া দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের লড়াকু ফিফটিতে চড়ে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছেন স্বাগতিকরা। টেস্টের দীর্ঘ ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই কোনো দলের।
সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ৪১৮ রানের, ২০০৩ সালে। আর পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি ৩৮২ রানের, ২০১৫ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে। চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান ৪৫০, ২০১৬ সালে ব্রিসবেনে ৪৯০ রান তাড়া করতে গিয়ে হেরেছিল তারা। এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক অতীতে তাড়া করে (টার্গেট ছিল ৫০৬) ড্র করেছিল পাকিস্তান ২০২২ সালে করাচিতে। পাকিস্তানের সেই দলের বাবর আজম-রিজওয়ানরা সিলেট টেস্টের দলে থাকলেও তারা ভুগছেন ছন্দহীনতায়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর থেকে তারা দেশের বাইরে টানা ছয় টেস্ট হেরেছে।
তৃতীয় দিনের সকালের শুরুটা একটু সতর্কভাবেই করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। দিনের শুরুর ৪৫ মিনিটে পাকিস্তানি পেসার খুররম শাহজাদ কিছুটা সুইং আদায় করে নিচ্ছিলেন। দলীয় সংগ্রহে বেশি রান যোগ হওয়ার আগেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে (১৫) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি।
তবে সেই শুরুর ধাক্কা টেরই পেতে দেননি মুশফিকুর রহিম ও প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস। পঞ্চম উইকেটে এই দুজন গড়েন ১২৩ রানের এক মহাগুরুত্বপূর্ণ জুটি। লিটন স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। অবশ্য ৩৮ রানের মাথায় রানআউট এবং ৫৬ রানে সাজিদ খানের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে দুবার জীবন পান তিনি। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৯২ বলে ৬৯ রানের এক চমৎকার ইনিংস খেলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এই ফিফটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে টেস্টে তিনবার একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করার অনন্য কীর্তি গড়েন লিটন।
লিটন বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানি বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে থাকেন মুশফিক। মুশফিককে চমৎকার সঙ্গ দেন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের ৫১ বলে ২২ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়। সপ্তম উইকেটে মুশফিক-তাইজুল যোগ করেন মূল্যবান ৭৭ রান।
২৩৩ বলের ম্যারাথন ইনিংসে ১৩৭ রান করে যখন মুশফিক শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন, ততক্ষণে বাংলাদেশের লিড ৪৩৫ ছাড়িয়ে গেছে। নিজের ইনিংসে ১২টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান মিস্টার ডিপেন্ডেবল। এটি মুশফিকের ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি, যার মাধ্যমে তিনি মুমিনুল হককে (১৩ সেঞ্চুরি) টপকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক বনে যান।
আন্তর্জাতিকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের পক্ষে শাহজাদ ৮৬ রানে ৪টি এবং সাজিদ খান ১২৬ রানে ৩টি উইকেট নেন। দিনের শেষ ভাগে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার জন্য মাত্র ২ ওভার সময় পায়।
