চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে চারটি সংস্থা। তাদের মধ্যে সমন্বয় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ভালো। আর এতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। আবার মেগা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। গত ২৮ এপ্রিলের বৃষ্টিতে নগরী জলমগ্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। গত শনিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও তিন মন্ত্রীকে নিয়ে খালপাড় পরিদর্শনে আসেন। এই জলাবদ্ধতা নিয়ে বর্তমান ও আগামীর করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশ রূপান্তর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ভূঁইয়া নজরুল
জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার আলো দেখা গেলেও সেই আশাতে শঙ্কাও আছে। চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান চার প্রকল্পের কাজ। ১৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকায় নগরীর ৩৬ খাল সংস্কার ও সম্প্রসারণ, একটি খাল নতুন করে খনন, জোয়ারের পানি প্রবেশ ঠেকাতে ৩৯টি খালের মুখে রেগুলেটর (স্লুইসগেট) স্থাপনসহ নতুন নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। খাল দখল ঠেকাতে খালের পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তাও। কিন্তু তারপরও শঙ্কা জলাবদ্ধতা মুক্ত নগরী হবে কি এবার?
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত মনিটরিং কমিটির প্রধানেরও দায়িত্বে পেয়েছেন। নগরীর নালা ও খালগুলো সংস্কার এবং পানি চলাচলের উপযোগী রাখার দায়িত্বও এই সংস্থার। জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ অতীতের যেকোনো অবস্থার চেয়ে এবার প্রায় ৮০ শতাংশ কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছর নগরীতে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কমে এসেছিল। জলমগ্নতার স্পট কমে এসেছিল। এবার এই অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে এবং এবার হয়তো হাতেগোনা কয়েকটি স্পটে জলমগ্ন সৃষ্টি হতে পারে। তবে সৃষ্টি হলেও পানি দ্রুত নেমে যাবে।
শুধু মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনই শুধু নয়, জলাবদ্ধতা প্রকল্পে নিয়োজিত সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ এবার কমে আসার পক্ষে একমত।
কী কারণে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ কমে আসবে?: বৈশাখের বৃষ্টিতেও নগরী জলমগ্ন হয়েছে। গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিলের দুর্ভোগের চিত্র সবার জানা। এমনকি এই দুর্ভোগ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এনেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। নগরবাসীর এই দুর্ভোগের চিত্র উপস্থাপনের পরই সংসদে চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি সুরাহার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে মীর শাহে আলম দায়িত্ব দেন। আর দায়িত্ব পেয়েই তিনি সেদিনই (২৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামে আসেন এবং দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে সিটি মেয়রকে প্রধান করে ১৯ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটি ঘোষণা করেন। সেই কমিটি গত বৃহস্পতিবার মিটিংও করেন। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো এমন কমিটি কিংবা মিটিংয়ের কারণে কি অতিবৃষ্টির পানি নেমে যাবে? নগরবাসী কি জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে পড়বে না?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে সিডিএর মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রকল্প কিন্তু প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে ৯৬ শতাংশ কাজও শেষ হয়েছে। এই শেষের কারণে আমরা নগরীর প্রধান নালা ও খালগুলো থেকে পানি নিষ্কাশনের নেটওয়ার্ক কিন্তু তৈরি করেছি। এতে এখন বৃষ্টি হলেই পানি দ্রুত নেমে যাবে। বৈশাখের বৃষ্টির সময় আমরা হিজরা খাল, জামালখান খাল, রামপুরা খালগুলোতে কাজ করার কারণে বেশি পানি একসঙ্গে চলাচলের রাস্তা না থাকায় কম সময়ে অধিক বৃষ্টি হওয়াতে পানি জমেছিল। বৈশাখের বৃষ্টির পর কিন্তু আমরা সব নালা ও খাল থেকে মাটি উত্তোলন করে পরিষ্কার করে দিচ্ছি এবং এতে পানি দ্রুত নেমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, অপরদিকে বৃষ্টির সময় যদি সাগরে জোয়ার থাকে তখন স্লুইসগেট বন্ধ থাকবে বলে জোয়ারের পানি কিন্তু শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। তাই তখনো জলাবদ্ধতার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণেই আমরা বলছি, এবার জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ অনেক কমে আসবে।
সক্রিয় রয়েছে ৩৯টি খালের মুখ : ৩৯টি খালের মুখে রেগুলেটর (স্লুইসগেট) বসার কথা থাকলেও এখনো তিনটি খালের মুখে সø্ইুসগেট বসেনি। তারপরও এবার জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন প্রকৌশলীরা। এই ৩৯ রেগুলেটরের মধ্যে ২১টি খালের (১১টি কর্ণফুলী নদীতে ও ১০টি হালদা নদীতে) মুখে রেগুলেটর বসানোর কথা ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা প্রকল্পের আওতায়।
কিন্তু এখনো তিনটি খালের মুখে রেগুলেটর বসানো না গেলেও পানি চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ। তিনি বলেন, পতেঙ্গার লালদিয়া চর, আগ্রাবাদের মোগলটুলি ও মাঝিরঘাটের নয়াহাট খালের মুখে এখনো স্লুইসগেট বসানোর কাজ শেষ হয়নি। এগুলো আগামী বর্ষার আগেই শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় সব খালের মুখে স্লুইসগেট বসানোর কাজ শেষ। প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার ফ্লাড ওয়ালও নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রকল্পের পাশাপাশি সিডিএর দুই প্রকল্পের অধীনে বসানো ১৮টি স্লুইসগেট যেহেতু বসানো হয়ে গেছে, সেহেতু জোয়ারের পানি প্রবেশের আর কোনো সুযোগ নেই।
একই মন্তব্য করেন সিডিএর কালুরঘাট থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা বাজেটের প্রকল্পের পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ। তিনি বলেন, আমার প্রকল্পের আওতায় ১২টি খালের মুখে রেগুলেটর নির্মাণের কাজ করছি। এগুলোর মধ্যে মাত্র একটিতে (কালুরঘাট সেতুর কাছে) রেগুলেটর বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। কিন্তু রেগুলেটর বসানো না হলেও পানি চলাচলে কোনো বাধা নেই। তাই খালের মুখে পানি আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
কর্ণফুলী ড্রেজিং করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ
সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত আটটি খালের মুখ থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত অংশ নিয়মিত মেইনটেনেন্স ড্রেজিং করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে নিজ উদ্যোগে কর্ণফুলীতে মেইনটেনেন্স ড্রেজিং করে থাকে। কিন্তু সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত এলাকায় একসময় ক্যাপিটেল ড্রেজিং করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে নিয়মিত মেইনটেনেন্স ড্রেজিং করা হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের সময় নদীর তলদেশে প্রচুর পরিমাণে পলিথিন পাওয়া যায়। এতে নদীর তলদেশে আবর্জনার স্তূপ বাড়ছিল। অপরদিকে খালের পানি যাতে কর্ণফুলীতে প্রবেশ করতে পারে সেজন্য খাল ও নদীর সংযোগ পরিষ্কার রাখে আমাদের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ।’
তিনি আরও বলেন, তবে নদীকে সুস্থ রাখতে হলে খালের মধ্যে আবর্জনা কম ফেলতে হবে এবং খালের পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। খালের পানি পরিষ্কার থাকলে কর্ণফুলী নদীর পানিও পরিষ্কার থাকবে।
আগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এক বা দুই ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরী জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এই দুর্ভোগ কিন্তু আজকের নতুন নয়। ১৯৯৪ থেকে ২০১০ পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময় তা প্রবল আকার ধারণ করে। আর এর ফলাফল পাওয়া যায় ২০১০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগের দিনের প্রবল বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা যখন ডুবে যায়। এমনকি কয়েকটি এলাকায় ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরও করা হয়েছিল জলাবদ্ধতার কারণে। আর সেই ভোটেই ডুবে গিয়েছিল টানা১৭ বছরের মেয়র হিসেবে থাকা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জয়রথ। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ নতুন একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু সেদিন বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করা এম মনজুর আলমকে পাঁচ বছরের নগর পিতার দায়িত্ব নগরবাসী দিলেও তিনি নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে পারেননি। ২০১৫ সালের নির্বাচনে নগরবাসী মনজুর আলমের পরিবর্তে নতুন তুর্কি আ জ ম নাছির উদ্দিনকে বেছে নেন। কিন্তু তিনিও যথারীতি ব্যর্থ হন। আর এই ব্যর্থতার সুযোগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম চট্টগ্রাম ওয়াসার মাস্টারপ্ল্যানকে ব্যবহার করে নগরীর ৩৬টি খাল নিয়ে ৫ হাজার ২০৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে আনেন। আর তা নিয়ে সিডিএ সিটি করপোরেশন বিরোধ চরমে পৌঁছে। দুই প্রধান সংস্থার সমন্বয়হীনতায় জলাবদ্ধতা প্রকল্প মারাত্মক রূপ ধারণ করে। আ জ ম নাছিরের পর ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়রের দায়িত্বে আসা রেজাউল করিমের সময় আরও ভরাডুবি হয়। তখনকার সময় মেয়র নিজের বাড়ি বহদ্দারহাট থেকে জলাবদ্ধতার সময় বের হতে পারেননি। স্থানীয়রা রিকশা করে তাকে বের করে নিয়ে আসেন। সর্বশেষ এখন ডা. শাহাদাত হোসেনের সময় শেষ হতে যাচ্ছে জলাবদ্ধতায় চলমান চার প্রকল্পের কাজ। সুফল কি তিনি পেতে যাচ্ছেন? নাকি নতুন শঙ্কার জন্ম হতে যাচ্ছে?
প্রকল্প শেষেও শঙ্কা থাকছে
জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান চার প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও শঙ্কা থাকছে। শঙ্কার কথা জানিয়ে বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ করা না গেলে জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা যাবে না। নগরীতে উন্মুক্ত স্থানের পরিমাণ বাড়াতে হবে। যাতে পানি চুইয়ে চুইয়ে মাটির অভ্যন্তরে চলে যেতে পারে। আমরা এখন দেখছি খেলার মাঠ, ঈদগাহ মাঠ, উন্মুক্ত স্থানগুলো কংক্রিটের পেভমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হচ্ছে। এতে মাটির অভ্যন্তরে পানি যাচ্ছে না। সব পানি ওভারফ্লো হয়ে রাস্তায় উঠছে।
একই মন্তব্য করেন বিগত প্রায় সব মেয়রের সময় পরামর্শক হিসেবে থাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি ত্রুটিযুক্ত ও খন্ডিত প্রকল্প। এই প্রকল্প দিয়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে না। যে শহরের ৫৭টি খালের মধ্যে ২১টি খাল বাইরে রেখে ৩৬টি খাল নিয়ে প্রকল্প করা হয়েছে সেখানে জলাবদ্ধতার পুরোপুরি সুফল আসবে না।
তিনি আরও বলেন, এই খালগুলো পরবর্তীতে কীভাবে সংস্কার করবে কিংবা খালগুলোর মুখে বসানো রেগুলেটর পরিচালনার ম্যানুয়েল কি এখনো তৈরি হয়েছে। সেই ম্যানুয়েল অনুযায়ী যদি সিটি করপোরেশন কাজ করে তাহলে তাদের কি জনবল আছে? এমন অনেক প্রশ্নের মুখে আদৌ এই প্রকল্প থেকে নগরবাসী সুফল পাবে কি না তা নিয়ে আমি সন্দিহান।
অন্যতম চ্যালেঞ্জ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
চট্টগ্রাম নগরীতে যে পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোকে যদি সম্পদে পরিণত করা না যায় তাহলে এসব বর্জ্য নালা ও খালে গিয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ভরাট হবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ। এ বিষয়ে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, নগরীর নালা ও খালগুলো বর্জ্য জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। পরিষ্কার করে যাওয়ার পর আবারও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে।
নগরীর বিভিন্ন নালা ও খাল ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়, খালপাড়ের বাসিন্দারা খালের ভেতরে ময়লা আবর্জনা ফেলছে। আবারও কোথাও কোথাও খালের পাড়ে ময়লার স্তূপ করে রেখেছে, বৃষ্টির সময় এসব আবর্জনা আবারও খালে গিয়ে পড়ছে।
তৈরি হচ্ছে জনবল কাঠামো
প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের জনবল নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী ও জলাবদ্ধতা বিষয়ক গঠিত মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল অমিন বলেন, আমরা এই প্রকল্পের আওতায় পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের জন্য অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের জন্য কাজ করছি। একই সঙ্গে এই প্রকল্প সুচারুভাবে সম্পাদনের জন্য আমরা পৃথক আরও দুটি প্রকল্প গ্রহণ করছি। এগুলোর একটি হলো রেগুলেটরগুলো মেইনটেনেন্স নিয়ে এবং অপরটি হলো প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১ খাল সংস্কার নিয়ে নতুন প্রকল্প গ্রহণ।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার প্রকল্পের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বহদ্দারহাট থেকে বারইপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায় একটি নতুন খাল খননের প্রকল্প রয়েছে। অপরদিকে সিডিএর ২ হাজার ৭৭৯ কোটির প্রকল্পের আওতায় চাক্তাই থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণের আওতায় ১২টি স্লুইসগেট রয়েছে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরেক প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০৮ কোটি টাকায় কর্ণফুলীর মোহনা থেকে উজানে মদুনাঘাট পর্যন্ত ২৩টি স্লুইসগেট রয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৯টি স্লুইসগেটে নগরীর খালগুলো থেকে কর্ণফুলী থেকে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে।
