পরকীয়ার জন্য খুন হলেন মোকাররম

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০৩:০৯ এএম

গত রবিবার রাজধানীর মুগদা মান্ডা এলাকায় মাথাবিহীন লাশের সাত টুকরা উদ্ধার করা হয়। লাশটি সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়ার বলে জানা গেছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। মূলত পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ের জন্য দেশে ফিরে খুন হন মোকাররম। ওই দিন রাতেই র‌্যাব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মোকররমের প্রেমিকা তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আসামিদের বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার র‌্যাব ৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান।

ফায়েজুল আরেফীন জানান, নিহত মোকাররমের সঙ্গে একই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার কাছ থেকে তাসলিমা বিভিন্ন সময়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। গত বুধবার মোকাররম পরিবারকে না জানিয়ে দেশে আসেন। পরে তারা মান্ডায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার ভাড়া বাসায় ওঠেন। ওই দিন রাতে তাদের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তা নিয়ে ঝগড়া হয়। তাসলিমা বিয়ে করতে অস্বীকার করায় একপর্যায়ে মোকাররম পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান। এ ছাড়া তাসলিমার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর তাসলিমা ও তার বান্ধবী হেলেনা মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পরদিন বৃহস্পতিবার সকালবেলা নাশতার সঙ্গে মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ঘুমের মধ্যে মোকাররমকে প্রথমে হেলেনা বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা  করে। পরে তাসলিমা, হেলেনা ও হালিমা বঁটি দিয়ে কুপিয়ে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথা থেঁতলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারা লাশ গুম করতে মরদেহ সাত টুকরো করে পলিথিনের ব্যাগে ভরে বাথরুমে রেখে দেয়। পরদিন শুক্রবার রাতে পলিথিন ভর্তি লাশ বাসার নিচে ময়লার স্তূপে, আর মাথা বাসা থেকে দূরে ফেলা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন সবাই মিলে বাইরে ঘোরাফেরা শেষে রাতে ছাদে পার্টি করে।

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, এর পরদিন শনিবার তাসলিমা তার ছেলে আহনাফকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত