কানাডার সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সম্পর্ক ছিন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ১০:০৩ এএম

কানাডার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌথ মহাদেশীয় প্রতিরক্ষা বোর্ড ‘পার্মানেন্ট জয়েন্ট বোর্ড অন ডিফেন্স’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে চালু থাকা এই ঐতিহাসিক ফোরামে ওয়াশিংটন আর অংশ নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কানাডা তাদের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী এলব্রিজ কোলবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, তার দপ্তর আপাতত এই বোর্ডে অংশগ্রহণ স্থগিত করছে। মূলত এই ফোরামের কার্যকারিতা এবং এর থেকে কী ধরনের উপকারিতা পাওয়া যাচ্ছে, তা নতুন করে মূল্যায়ন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ফাঁকা বুলির চেয়ে কঠোর সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনকারী একটি শক্তিশালী কানাডা সবার জন্যই কল্যাণকর। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, দেশটি তাদের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

কোলবি আরও যোগ করেন, বক্তব্য আর বাস্তবতার মধ্যকার এই বিশাল ব্যবধান আমরা আর এড়িয়ে যেতে পারি না। প্রকৃত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকে যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই নিজেদের কথার প্রমাণ দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডার সঙ্গে দেশটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশ্চিমা মিত্রদের কঠোর সমালোচনার এটি সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগ- মিত্র দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত মাত্রায় মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করে আসছে মিত্র রাষ্ট্রগুলো। তাদের দাবি, তারা ক্রমান্বয়ে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আগের চেয়ে অনেক বেশি ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখ্য, গত বছর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে প্রায় সব সদস্য দেশই তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে কানাডাও এই বাড়তি ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় ছিল। কানাডা সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিরক্ষার জন্য নির্ধারিত ৫ শতাংশ ব্যয়ের মধ্যে ৩.৫ শতাংশ দেশের মূল সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং বাকি অর্থ বন্দর উন্নয়ন ও জরুরি প্রস্তুতিসহ অন্যান্য নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করার কথা।

তবে ২০২৫ সালের মার্চে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। চলতি বছর এক ভাষণে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কানাডার মতো মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর উচিত একজোট হয়ে বর্তমান মহাশক্তিগুলোর (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন) মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বলয় এড়িয়ে চলা। প্রধানমন্ত্রীর এমন কৌশলী অবস্থানের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই যৌথ প্রতিরক্ষা বোর্ড স্থগিতের ঘোষণা এলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত