খুলনা

জোড়াগেট পশুর হাটে ভিড় বাড়লেও জমেনি কেনাবেচা

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট জোড়াগেটে মানুষের হাঁক-ডাক বাড়তে শুরু করেছে। বিভাগের বিভিন্ন জেলার নদী ও সড়কপথে পশু এখনও ঢুকছে, তবে মানুষের ভিড় থাকলেও এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা। অনেকে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন কিন্তু হাতবদল হচ্ছে কমই। 

২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খুলনা সিটি করপোরেশন ঈদের আগের সপ্তাহজুড়ে নগরীর জোড়াগেটে পশুর হাটের আয়োজন করে। একপাশে ছাগল ও বৃহত্তর অংশজুড়ে গরুর হাট বসে। 

বিক্রেতারা বলছেন, ২১ মে হাট শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক দিন পশুর সংখ্যা কম ছিল। তবে রবিবার রাত থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-ছাগলসহ অন্যান্য পশু আসতে শুরু করে, যা এখনো আসছে। এর মধ্য ছোট আকারের কিছু গরু বিক্রি হলেও মাঝারি ও বড় গরুর বেচাকেনা খুব কম। নগরে পশু রাখার জায়গার সংকট থাকায় অনেক ক্রেতাই ঈদের এক-দুই দিন আগে গরু কিনতে চান। ফলে এখনও অপেক্ষায় আছেন বিক্রেতারা। তাদের আশা, আজ সন্ধ্যার পর থেকে গতি ফিরবে।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, কিছু বড় গরুর সামনে দর্শনার্থীদের জটলা তৈরি হচ্ছে। অনেকে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও বড় গরু নিয়ে কৌতূহল দেখা গেছে। বিশেষ করে বড় ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল ও ব্রাহামা জাতের গরুর সামনে ভিড় বেশি।

কেউ গরু দেখতে এসেছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বাজার যাচাই করছেন, আবার কেউ খোঁজ করছেন হাটের সবচেয়ে বড় গরু। বরাবরের মতো হাটে সবচেয়ে বেশি গরু এসেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে।

হাটে এবার অন্য বছরের তুলনায় খুব বড় গরুর সংখ্যা কম। মাঝারি ও বড় আকারের গরুই বেশি চোখে পড়ছে। ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি।

বাজার যাচাই করতে এসেছেন ব্যবসায়ী শাহরিয়ার। তিনি বলেন, যে গরু পছন্দ হয় তার দাম ৩ লাখ টাকার বেশি, আবার দেড় লক্ষ টাকার গরু অনেক ছোট, বুঝতে পারছি না গরুর দাম কমকে কিনা?

হাটের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ছাগল-ভেড়ার জন্য পৃথক জায়গা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী বুথ। রয়েছে হাসিল আদায়ের জন্য বরাদ্দ জায়গা। সেখানে মাইকে বারবার হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। হাটের সার্বিক পরিবেশ ভালো। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তেও এখনও কেনাবেচা তুলনামূলক কম।

নড়াইলের মির্জাপুর থেকে দুটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু নিয়ে এসেছেন আল মামুন। তার বড় গরুটির দাম চাচ্ছেন ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। আর ছোটটির দাম ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।

মামুন বলেন, গতবছরও তিনি এ হাটে দুইটি গরু নিয়ে এসেছিলেন। আজ সাড়ে বারোটার দিকে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম। তিনি বলেন, এই হাটে শেষ দিকেই বেচাকেনা জমে। এটাই এই হাটের রীতি। হয়তো সন্ধ্যার পর হাট জমবে। 

নড়াইলের কালিয়ার বাবুপুর এলাকার শিমুল সরদার এনেছেন একটি বড় ফ্রিজিয়ান ও একটি শাহিওয়াল গরু। তার ফ্রিজিয়ান গরুটির ওজন ২৫ মণের বেশি বলে দাবি করেন তিনি। গরুটি দেখতে লোকজনের বেশ ভিড়। শিমুল বলেন, তিনি ফ্রিজিয়ানটির দাম হাঁকছেন সাড়ে সাত লাখ টাকা, আর শাহিওয়ালটির দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা। ক্রেতারা শুধু দরদামই করছেন।

নগরের সদর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম পরিবার নিয়ে হাট দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, হাট এখনও পুরো ভরে যায়নি, এখনও পশু আসছে। এবার হাটে মাঝারি গরুই বেশি। অন্যবারের মতো খুব বড় গরু কম। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম বেশি।

তিনি আরও বলেন, শহরে পশু রাখার জায়গা সংকট থাকায় নগরবাসী ঈদের এক-দুই দিন আগে গরু কেনাকাটায় বেশি আগ্রহী হন।

হাটের পাশে পশুখাদ্য ও আনুষঙ্গিক পণ্যের অস্থায়ী দোকানও বসেছে। বিক্রি হচ্ছে গমের ভুসি, ধানের ভুসি, খইল, শুকনা খড়, তাজা ঘাস, চাটাই, টুকরি ও রঙিন মালা। মৌসুমি ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, এখনও বেচাকেনা তেমন শুরু হয়নি। তবে রাত থেকে হাট জমবে বলে আশা করছেন।

খুলনা সিটি করপোরেশনের সুপারিনটেনডেন্ট ট্যাক্সেশন (বাজার) ও হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব শেখ শফিকুল হাসান দিদার বলেন, গত বছর এই হাটে ৬ হাজার ৬৫১টি পশু বিক্রি হয়েছিল এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ২৭টি পশু, রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এখানে মূল কেনাবেচা হয় ঈদের আগের দুই দিন ও ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত। এখনও বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসছে। 
দিদার আরও বলেন, গত বছরের মতো এবারও ৪ শতাংশ হারে হাসিল নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত