পরকালে যেভাবে প্রতারণার কথা স্বীকার করবে শয়তান

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম

মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তান। সে মিথ্যা আশা, প্রবৃত্তির মোহ এবং পাপের চাকচিক্য দিয়ে মানুষকে সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কিন্তু কেয়ামতের দিন সেই শয়তানই তার প্রতারণার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করবে এবং অনুসারীদের দায়ভার নিতে অস্বীকার করবে।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, যখন বিচারকার্য সম্পন্ন হবে এবং পথভ্রষ্ট মানুষ নিজেদের ভয়াবহ পরিণতি দেখতে পাবে, তখন তারা তাদের বিভ্রান্তকারীদের প্রতি ক্ষোভে ফেটে পড়বে। যারা দুনিয়ায় তাদের আদর্শ ছিল, পরকালে তারাই হবে সবচেয়ে ঘৃণিত। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কাফেররা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্যে যারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা তাদেরকে পায়ের নিচে রাখব। যাতে তারা নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়।’ (সুরা ফুসসিলাত ২৯)

এরপর ইবলিশ বলবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের দিয়েছিলেন সত্য ওয়াদা। তোমাদের ওপর আমার কোনো আধিপত্য ছিল না। তবে আমিও তোমাদের ওয়াদা দিয়েছিলাম, এখন আমি তা ভঙ্গ করলাম। তোমাদের দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ। সুতরাং তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করো না, বরং নিজদেরই ভর্ৎসনা করো। আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই, আর তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও। ইতিপূর্বে তোমরা আমাকে যার সঙ্গে শরিক করেছ, নিশ্চয় আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয় জালেমদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আজাব।’ (সুরা ইব্রাহিম ২২) শয়তানের প্রতারণার ধরনও কোরআন স্পষ্ট করেছে। সে মানুষকে একবারে বড় গুনাহে নিমজ্জিত করে না, বরং ধাপে ধাপে পাপের দিকে টেনে নেয়। এ কারণেই মহান আল্লাহ সতর্ক করেছেন, ‘তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’ (সুরা নুর ২১)

তাই মুমিনের কর্তব্য হলো শয়তানের প্রলোভন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথে অবিচল থাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত