আল মুসলিম গ্রুপের ১৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ এএম

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহর মালিকানাধীন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আল মুসলিম গ্রুপ’-এর সাভারের তিনটি কারখানার ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘আল মুসলিম’ গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান।

মো. আবু রায়হান জানান, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারা ব্যবহার করে যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ করে শ্রমিক-কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে, নিয়ম মোতাবেক শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে বলে ‘আল মুসলিম’ গ্রুপ কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও ঈদের ছুটির পর কারখানা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

ছাঁটাই করা শ্রমিকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কারখানার ফটক-সংলগ্ন সীমানা প্রাচীরের দেয়ালে টাঙানো হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে সাভারের উলাইল এলাকায় একটি কারখানার সামনে শ্রমিকদের জড়ো হতে দেখা যায়। ঈদের ছুটি শেষে কারখানার গেটে এসে চাকরি নেই জানতে পেরে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মো. আবু রায়হান বলেন, তাদের তিনটি কারখানায় শ্রমিক-কর্মকর্তাসহ ২৭ হাজার লোক কাজ করেন। ১ হাজার ৮৬৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভার উলাইল এলাকায় অবস্থিত একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকায় অবস্থিত প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার কারখানার ৫২৯ জন ও আশুলিয়ার জিরাবোতে অবস্থিত আল মুসলিম অ্যাপারেলস কারখানার ৫৩ জন শ্রমিক-কর্মকর্তা রয়েছেন।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের চরম আশঙ্কার মুখে শুক্রবার রাতে সাভারের স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে এক জরুরি মতবিনিময় সভা করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। সভায় উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং এর পেছনে থাকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় কারখানা কর্তৃপক্ষ সংবাদকর্মীদের সঠিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ করার আহ্বান জানান। তবে শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রগুলো মনে করেন হঠাৎ করে এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারিয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের অসন্তোষ হতে পারে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। ফলে কারখানা খোলার পর চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আল মুসলিম গ্রুপের কয়েকজন শ্রমিক জানান, ঈদের আনন্দের পরপরই এভাবে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে এটা ভাবিনি। পাওনা টাকা দিলেও এই বাজারে নতুন চাকরি পাওয়া অসম্ভব। আমরা আমাদের রুটি-রুজির অধিকার ফেরত চাই।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, কারখানায় কোনো কাজ না থাকলে মালিকপক্ষ ২০ ধারায় শ্রমিকদের ছাঁটাই করতে পারেন। তবে পরবর্তী সময়ে শ্রমিক নিয়োগ করলে এই সমস্ত শ্রমিককেই চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। তবে হুট করে এতগুলো শ্রমিকরে ছাঁটাই করার কারণে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে এই এলাকায়। এই শ্রমিক নেতা আরও বলেন, ‘ঈদের ছুটির পর প্রথম কারখানা খুলছে। তাই ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে এখনো আমাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। অনেক শ্রমিক জানেনও না যে তারা ছাঁটাই হয়েছেন। শ্রমিকরা আমাদের কাছে সাহায্য চাইলে অবশ্যই আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত