বাংলা কিউআর: এক কোডে সব ব্যাংক ও এমএফএসের লেনদেন শুরু 

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও একীভূত করতে আগামী ১ জুলাই থেকে সারাদেশে চালু হচ্ছে বাংলা কিউআর। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ীর একটি কিউআর কোড ব্যবহার করেই সব ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহক লেনদেন করতে পারবেন।

এ উপলক্ষে বুধবার (১০ জুন) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গভর্নর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা কিউআরের উদ্বোধন করেন। 

অনুষ্ঠানে তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট সেবা পরিচালনা করছে। ফলে ব্যবসায়ীদের একাধিক প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড ব্যবহার করতে হয়। বাংলা কিউআর চালুর ফলে এই জটিলতা দূর হবে। একজন গ্রাহক তার ব্যবহৃত যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে একই কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলা কিউআরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর আন্তঃপরিচালনযোগ্যতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি)। এর ফলে একটি মাত্র কিউআর কোডের মাধ্যমে সব ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারবেন।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ লেনদেন সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক বা ওয়ালেট অ্যাপ থেকে সম্পন্ন হবে এবং প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলা কিউআর শুধু একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা নয়, বরং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল লেনদেনের তথ্যভান্ডার তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে তাদের ঋণপ্রাপ্তি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব ব্যাংক, এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানকে বাংলা কিউআরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, অভিন্ন এই কিউআর ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দেশে নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে, ডিজিটাল লেনদেন বাড়বে এবং স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত