সৃজনশীল প্রকল্পে মুগ্ধ দর্শনার্থী

ভোলায় বিজ্ঞান মেলায় উদ্ভাবনী প্রদর্শনী

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে  দৌলতখান ও ভোলা সদরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সৃজনশীল প্রকল্প দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নির্দেশনায় এবং ‘এনহ্যান্সিং এডুকেশন থ্রু সাইন্স সাপোর্ট (ইইএসএস)’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে এ বিজ্ঞান প্রদর্শনী ও উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করা হয়। 

দৌলতখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশ নেন। ‘মেধা, বিজ্ঞান, উল্লাস ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহামুদুল হাসান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন তালুকদার এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার।

এসময় বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান ও উদ্ভাবনী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ চিন্তায় উৎসাহিত করবে।

প্রদর্শনীতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, স্মার্ট ডিভাইস এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা সমাধানভিত্তিক প্রকল্প ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। দৌলতখান উপজেলার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে পশ্চিম জয়নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান জয়নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে জয়নুল আবদিন ল্যাবরেটরি হাই স্কুল।

অন্যদিকে ভোলা সদরে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাদের সৃজনশীল উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে টবগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ভোলা কালেক্টরেট স্কুল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। আজকের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত