দেশের আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)। একই সঙ্গে খাতটির বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে তাদের এসব দাবি বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় বিস্তারিত তুলে ধরেন বেলিয়ার সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জল।
শফিউল আলম উজ্জল বলেন, বর্তমান নগরায়ণ, বহুতল ভবন নির্মাণ, শিল্পায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে লিফট কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়। বরং এটি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম অপরিহার্য মূলধনী যন্ত্রপাতি। কিন্তু ২০২৩ সালে লিফটকে মূলধনী যন্ত্রপাতির শ্রেণি থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে এ খাতের শুল্ক বাড়ানো হয়। এর ফলে গত দুই বছরে লিফট আমদানির ওপর মোট শুল্কহার প্রায় ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বেলিয়ার সভাপতি আরও বলেন, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আবাসন শিল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নির্মাণব্যয় বেড়েছে। অনেক লিফট কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হওয়ায় বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতার ওপর গিয়ে পড়ছে। ফলে মধ্যবিত্তের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন ক্রমশ অধরা হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া শুল্ক ও করের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে নিম্নমানের বা পুনর্নির্মিত (রিকন্ডিশনড) লিফট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।