সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগে আগামী ৩ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই প্রবল বর্ষণ এবং ভারতের উজানের পানির কারণে এসব অঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি ও সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
রবিবার (২১ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদী ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (রংপুর) ও ভারাপুর (গাইবান্ধা) স্টেশনে, সুরমা নদী কানাইঘাট (সিলেট), ছাতক (সুনামগঞ্জ) ও সুনামগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ ও অরুণাচল প্রদেশে অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী এবং পরবর্তী দুই দিন মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। নদ-নদীগুলোর পানি সমতল আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে, তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী দুই দিন অব্যহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী তিন দিন বাড়তে পারে। তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে নদীগুলোতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
দাবি পূরণ হলে ইসলামী ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে