দেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দণ্ডের মাত্রা নির্ধারণে একটি অভিন্ন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ আইন কমিশন।
আজ রবিবার আইন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে ‘ফৌজদারি অপরাধের দণ্ডের মাত্রা নিরূপণ বিষয়ক আইন প্রণয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই’ শীর্ষক ওই জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি জিনাত আরা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন কমিশনের সচিব সৈয়দ আজাদ সুবহানী।
প্রস্তাবিত আইনের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন কমিশনের গবেষণা কর্মকর্তা মোসাম্মাত মনিরা সুলতানা। প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দণ্ডের মাত্রা নির্ধারণে নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট আইনগত নির্দেশনার অভাবে একই ধরনের অপরাধে দণ্ডের তারতম্য দেখা দিতে পারে, যা ন্যায়বিচারে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করে।
আলোচনা পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি শামীম হাসনাইন অধ্যাপক ড. নাইমা হক, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দণ্ড নির্ধারণ সংক্রান্ত পৃথক আইন ও নির্দেশিকা প্রবর্তনের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমেয়তা বৃদ্ধির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
আইন ও বিচার মন্ত্রী বলেন, একটি আইন চূড়ান্তকরণের আগে মন্ত্রিপরিষদ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় সংসদে বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়। এসব স্তরে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত সংযোজিত হলে আইন আরও কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য হয়।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারা ও সংজ্ঞা নিয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সেনটেন্সিং গাইডলাইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।