তারেক-আনোয়ারের বৈঠকে তিনটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১১:২৭ এএম

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো দৃঢ় ও গতিশীল করার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণ, অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের বৈধতা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।

আলোচনা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি, বিনিয়োগ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত ও বিনিময় হয়।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’ ভবনে এই শীর্ষ বৈঠক হয়।

এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। পরে তাদের যৌথ নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করেন দুই শীর্ষ নেতা।

প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন জটিলতায় মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ (বৈধতা প্রদান) এবং তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন এবং ‘রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়। 

পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি যৌথ দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দলিল দুটি হস্তান্তর করেন।

বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষর পর্ব শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত