ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি শক্তিশালী এল নিনো বা ‘সুপার এল নিনো’র স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
সুপার এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যেখানে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৯৯৭ সালের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোর সঙ্গে চলতি বছরের পরিস্থিতির গভীর মিল রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও উচ্চতা বৃদ্ধির এই প্রবণতা বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাতেও বড় ধরনের তারতম্য ঘটবে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলসহ দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে তীব্র খরার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতীতের শক্তিশালী এল নিনোর সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের নজির রয়েছে, যা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে, এবারের এই জলবায়ু পরিস্থিতি সামগ্রিক বৈশ্বিক আবহাওয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। নাসার সেন্টিনেল-৬ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানী ডা. সেভেরিন ফুরনিয়ে জানান, এবারের পরিস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিশেষ অবস্থায় বিশ্ববাসীকে সতর্ক থাকার এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।