প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর

অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা বনাম ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি 

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির এক নতুন ও চ্যালেঞ্জিং দিগন্তের উন্মোচন করেছে এবং নতুন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ হলো সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। এই ঐতিহাসিক নীতিমালার আলোকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে এক নতুন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। 

বিশ শতকের শেষভাগ থেকে একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে এসে বৈশ্বিক রাজনীতিতে যে তীব্র মেরুকরণ ঘটছে, তাতে বাংলাদেশের মতো একটি উদীয়মান কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে সংবেদনশীল শক্তির অবস্থান অত্যন্ত জটিল সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশের সাথে চীন ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের বিবর্তন ঘটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন গতিতে ও ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। 

মালয়েশিয়া ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দিকের মুসলিম দেশগুলোর একটি, যা স্বাধীন বাংলাদেশকে অত্যন্ত দ্রুত কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্যদিকে, চীনের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে কিছুটা সময় লাগলেও আশির দশক থেকে তা ক্রমান্বয়ে গভীর হতে থাকে এবং গত এক দশকে তা একটি শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নেয়। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে যখন এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, তখন এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ এশীয় দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে। 

এই সফর কেবল দুটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক ভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝে নিজের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার একটি সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক প্রয়াস, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে বিশ্লেষিত হচ্ছে।

চীন সফরকালে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা। বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্রমাগত পতনের কারণে এক ধরনের তীব্র সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে বেইজিংয়ের কাছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের চীনা মুদ্রা তথা ইউয়ানের একটি বিশেষ ঋণ প্যাকেজ বা বাজেট সহায়তার তীব্র প্রত্যাশা ছিল। 

বেইজিংয়ের এই অর্থনৈতিক প্যাকেজকে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমানোর একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তবে এই সফরের বাস্তব অর্জন এবং আর্থিক নিশ্চয়তার চিত্রটি বিশ্লেষণ করলে এক ধরনের মিশ্র সমীকরণ সামনে আসে। 

চীন বাংলাদেশকে তার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের মুহূর্তে সরাসরি কোনো বিশাল অঙ্কের তরল মুদ্রা বা ক্যাশ সাপোর্ট দেয়নি, যা বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক রিজার্ভের সংকট পুরোপুরি কাটাতে পারত। এর পরিবর্তে চীনের পক্ষ থেকে ১ বিলিয়ন রেনমিনবি বা চীনা মুদ্রা, যা প্রায় ১৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, তা অনুদান হিসেবে দেওয়ার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। 

এই অনুদানটি বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক দিক কারণ এটি ফেরত দিতে হবে না, তবে এটি নগদ ডলার হিসেবে না পেয়ে চীন থেকে পণ্য বা জরুরি সেবা আমদানির পেছনে সমন্বয় করতে হবে। এর পাশাপাশি চীন মূলত প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক সহায়তা এবং বাণিজ্যের শর্ত সহজ করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তি এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধ ছিল।

স্বাক্ষরিত দলিল ও আইনি বাধ্যবাধকতার সূক্ষ্ম কূটনৈতিক বিশ্লেষণ‌ করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা দরকার। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারকের মধ্যকার সূক্ষ্ম আইনি পার্থক্যটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি, যা প্রায়শই সাধারণ প্রচারণার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর এই বেইজিং সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে প্রায় ২১টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ৭টি বড় প্রকল্পের সমাপ্তি ও নতুন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এখানে কূটনৈতিক ও আইনি বাস্তবতার সবচেয়ে বড় সত্যটি হলো, এই দলিলের সিংহভাগই ছিল সমঝোতা স্মারক, কোনো চূড়ান্ত বা আইনি বাধ্যতামূলক চুক্তি নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি চুক্তি হলো সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক আইনি দলিল, যার শর্ত ভঙ্গ করলে যেকোনো পক্ষ আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারে। অন্যদিকে, সমঝোতা স্মারক হলো মূলত একটি ইচ্ছাপত্র বা পারস্পরিক সম্মতির ঘোষণা, যার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না এবং কোনো পক্ষ এটি থেকে পিছিয়ে গেলে তাকে আইনত বাধ্য করা যায় না। এই সফরে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

এর মধ্যে অন্যতম হলো দুই দেশের বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা দূর করতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রার মাধ্যমে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির একটি প্রাথমিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা। এই সমঝোতাগুলো দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করলেও, এগুলোকে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপান্তর করা এবং বাস্তবায়ন স্তরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের কূটনৈতিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে, কারণ কাগজে-কলমে থাকা সদিচ্ছা আর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকে।

চলুন এখন যৌথ ঘোষণার শব্দচয়ন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের রূপান্তরগুলো খানিকটা বিশ্লেষণ করি। চীন সফর শেষে দুই দেশের সরকার কর্তৃক প্রকাশিত যৌথ ইশতেহার বা যৌথ ঘোষণার শব্দচয়ন বিশ্লেষণ করলে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি ও গোপন রাজনৈতিক সমীকরণের বাস্তব চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। 

এই যৌথ ঘোষণায় সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তা হলো দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে উন্নীত করে ‘Comprehensive Strategic Cooperative Partnership’ বা ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশিদারিত্ব’ স্তরে রূপান্তর করা। কুটনৈতিক পরিভাষায় এর অর্থ অত্যন্ত গভীর এবং এটি নির্দেশ করে যে বাংলাদেশ এখন কেবল বেইজিংয়ের একটি সাধারণ বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিত্র। যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে চীনের ‘এক চীন নীতি’ বা ওয়ান চায়না পলিসির প্রতি তার দীর্ঘদিনের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। 

এর বিনিময়ে চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিজস্ব পথ অনুযায়ী জাতীয় উন্নয়নের স্বাধীনতাকে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যৌথ ঘোষণার আরেকটি বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল চীনের ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ বা জিডিআই-এর সাথে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়া। চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশকে তার নিজস্ব গ্লোবাল সিকিউরিটি আর্কিটেকচার এবং ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কের দিকে টানতে চাচ্ছিল। বাংলাদেশ অত্যন্ত চতুরতার সাথে যৌথ ঘোষণায় কেবল ‘উন্নয়নমূলক’ বা অর্থনৈতিক অংশটিতে সম্মতি দিয়েছে এবং কোনো ধরনের সামরিক বা নিরাপত্তা জোটে সরাসরি জড়ানোর বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছে, যা ঢাকার ভারসাম্যমূলক কূটনীতির একটি উদাহরণ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা‌ ও চীন ও ভারতের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক টানাটানি পর্যালোচনা করলে পরিলক্ষিত হয় যে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি বণ্টন দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনীতির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অমীমাংসিত ইস্যু। এই চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে কিনা, তা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা বা অর্থায়ন নিয়ে এই সফরে বেইজিংয়ের সাথে কোনো স্পষ্ট বা আইনি বাধ্যতামূলক চুক্তি হয়নি। 

যৌথ ঘোষণায় তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে অত্যন্ত পরিমিত কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে চীনা পক্ষ ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’-এর জন্য তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সাহায্য ও সমর্থন দেবে এবং দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি সংক্রান্ত কাজকে ত্বরান্বিত করবে। 

ভৌগোলিক ও কৌশলগত বাস্তবতার কারণে তিস্তা নদীটি যেহেতু একটি আন্তঃসীমান্ত নদী এবং এটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাই এই প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততাকে নয়াদিল্লি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি মনে করে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেকের কাছাকাছি চীনের যেকোনো ধরনের কারিগরি বা অবকাঠামোগত উপস্থিতি নয়াদিল্লির সামরিক সমীকরণকে স্পর্শ করে। 

এই কারণে ভারত নিজেই তিস্তা বেসিন সংরক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তার জন্য বাংলাদেশের কাছে একটি বিকল্প প্রস্তাব বা কাউন্টার-অফার দিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ এখানে এক ধরনের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, যেখানে চীনের প্রস্তাবকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের কাছ থেকে তিস্তার পানি বণ্টনের মূল চুক্তিটি আদায়ের একটি পরোক্ষ চেষ্টা স্পষ্ট।

মালয়েশিয়া সফরটি ছিল মূলত বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত শ্রমবাজারের সংকট নিরসনের একটি সরাসরি ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিশাল সংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি অন্যতম প্রধান উৎস। 

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী মহলের তৈরি করা ‘সিন্ডিকেট চক্রের’ দৌরাত্ম্যের কারণে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী চরম প্রতারণা ও শোষণের শিকার হয়েছেন। এই পটভূমিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কর্মসংস্থান ভিসা সচল রাখা, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল করা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর যে সমঝোতা ও যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে, তার মূল সুর ছিল একটি সমন্বিত ও সম্পূর্ণ অনলাইন ডেটাবেজের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো যায়। 

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার আইনি গ্যারান্টি প্রদানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে অতীতেও দেখা গেছে যে, কাগজে-কলমে চুক্তি বা সমঝোতা হলেও মাঠপর্যায়ে  সিন্ডিকেট চক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে কুয়ালালামপুরের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন তদারকি নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

আসিয়ান সমীকরণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক চাপ ছিল এবারের সফরের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট ‘আসিয়ান’। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানের সাথে তার সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই সফরে মালয়েশিয়ার সাথে যৌথ ঘোষণায় সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। মালয়েশিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, আগামী দিনে আসিয়ানের চেয়ার বা প্রধান দেশ হিসেবে তারা বাংলাদেশকে আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ করার বিষয়ে তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার অনেক বাড়িয়ে দেবে। এর পাশাপাশি, এই দুই দেশের সফরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট—মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। 

মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক জান্তা সরকারের ওপর চীনের যেমন ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব রয়েছে, তেমনি মালয়েশিয়াও আসিয়ানের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য দেশ হিসেবে মিয়ানমার সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ বেইজিংকে অনুরোধ করেছে যেন তারা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর তাদের প্রভাব খাটায়। 

চীন এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করার আশ্বাস দিলেও, যৌথ ঘোষণায় তা কেবল কিছু চটকদার কূটনৈতিক শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে এবং চীন মিয়ানমারকে চটানোর মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে মালয়েশিয়া নিজে বহু রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকার সাথে কুয়ালালামপুরের এই বিষয়ে একটি অভিন্ন অবস্থান রয়েছে এবং তারা আসিয়ানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর বহুপাক্ষিক চাপ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বাংলাদেশের এই এশীয় কূটনৈতিক তৎপরতা, বিশেষ করে বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করার বিষয়টি নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন অত্যন্ত নিবিড় ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ভারতের জাতীয় পত্রিকা এবং শীর্ষস্থানীয় থিংক ট্যাংকগুলোর আলোচনায় এই সফরের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত ও কিছুটা উদ্বেলিত বিশ্লেষণ দেখা গেছে। ভারতের মূল উদ্বেগ হলো বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তার। ভারত বাংলাদেশকে তার ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা প্রতিবেশী প্রথম নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মনে করে, তাই বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার যেকোনো কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির নিরাপত্তা সমীকরণকে স্পর্শ করে। 

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের এই পদক্ষেপকে তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ বা আইপিএস-এর প্রেক্ষাপট থেকে মূল্যায়ন করছে। 

ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মতে, বাংলাদেশ যদি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং নতুন করে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় অতিমাত্রায় ঝুঁকে পড়ে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করবে। মার্কিন ও ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই সফরকে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নিরপেক্ষতা পরীক্ষার একটি মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ অবশ্য পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে এই আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে যে, চীনের সাথে তার সম্পর্ক পুরোপুরি অর্থনৈতিক ও উন্নয়নকেন্দ্রিক, এর সাথে অন্য কোনো দেশের ঐতিহাসিক বা কৌশলগত সম্পর্কের কোনো সংঘাত নেই।

ইউক্রেন সংকটের পর থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে যে নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ ও মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তার পরোক্ষ প্রভাব বাংলাদেশের এই চীন ও মালয়েশিয়া সফরেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার বর্তমান গভীর কৌশলগত অক্ষের কারণে, মস্কো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চীনের প্রভাব বৃদ্ধিকে পশ্চিমা আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে একটি কাউন্টার-ব্যালেন্স বা ভারসাম্য হিসেবে দেখে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও থিংক ট্যাংকগুলোর আলোচনায় উঠে এসেছে যে, গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণের উদীয়মান দেশগুলো এখন আর পশ্চিমা দেশগুলোর একক অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল নয়। বাংলাদেশ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বৃহৎ প্রকল্পে রাশিয়ার সাথে কাজ করছে এবং একই সাথে চীনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহায়তা নিচ্ছে, যা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর বৈশ্বিক কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো অবশ্য এই সফরের বাণিজ্যিক ও মানবাধিকারের দিকটিতে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার হওয়ায় তারা দেখতে চায় যে, চীনের সাথে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার কারণে বাংলাদেশ ইউরোপীয় বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেওয়া শ্রম অধিকার, পরিবেশগত মানদণ্ড এবং সুশাসনের শর্তগুলো থেকে পিছিয়ে যায় কিনা। সামগ্রিকভাবে, এই সফর বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর মধ্যে চলমান তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত সাবধানে পথ চলার একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৌশলগত সংযোগ, গভীর ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও সমীকরণের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির অন্তরালে যে গভীরতম ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও সমীকরণগুলো জড়িয়ে আছে, যা প্রাথমিক আলোচনায় বিশদ ব্যাখ্যার দাবি রাখে, তা এই প্রবন্ধে শুধুমাত্র স্পর্শ করা হলো। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বাংলাদেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে। বেইজিংয়ের এই বিশাল সংযোগ পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ অবকাঠামোগত সুবিধা পেলেও, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর কিংবা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের উদাহরণ ঢাকার নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। এই সফরে চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ বা জিডিআই-তে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্তি বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই জিডিআই-কে চীনের বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তারের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার মনে করে। ফলে, এতে বাংলাদেশের স্বাক্ষর ওয়াশিংটনের তৈরি করা ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ বা আইপিএস-এর ওপর একটি পরোক্ষ আঘাত হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মনে করছে, বাংলাদেশ নিরপেক্ষতার নীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে বেইজিংয়ের মেরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক কৌশলের সাথে সাংঘর্ষিক।

একই সময়ে, ভারতের গভীর নজরদারি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাংলাদেশকে এক চরম আঞ্চলিক পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকের মূল মাথাব্যথা হলো ভারতের ‘ভৌগোলিক ঘেরাও নীতি’ বা 'স্ট্রিং অব পার্লস' কৌশল, যার মাধ্যমে চীন চারদিক থেকে ভারতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। এই সমীকরণে তিস্তা সীমান্তে চীনের যেকোনো ধরনের কারিগরি বা অবকাঠামোগত উপস্থিতি ভারতের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিলিগুড়ি করিডোরের ভূকৌশলগত স্পর্শকাতরতার কারণে ভারত কোনোভাবেই তিস্তা নদী অববাহিকায় চীনা প্রকৌশলী ও নজরদারি ব্যবস্থার অবস্থান মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে, চীনের বিআরআই ও জিডিআই-এর প্রভাব এবং তিস্তায় বেইজিংয়ের সম্ভাব্য ভূমিকা ভারতকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করতে পারে। বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিটি হলো, একদিকে প্রধান রপ্তানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব, অন্যদিকে নিকটতম প্রতিবেশী ও নিরাপত্তা অংশীদার ভারত, আর অপরপক্ষে প্রধান অর্থনৈতিক ও‌ অবকাঠামোগত সাহায্যকারী চীন—এই তিন পরাশক্তির টানাপোড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

পরিশেষে, এই সুদীর্ঘ ও বিস্তৃত প্রবন্ধের সামগ্রিক সারসংক্ষেপ টানলে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরটি ছিল একই সাথে অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার এক জটিল পরীক্ষা। সারসংক্ষেপে বলা যায়, বাংলাদেশ এই সফরগুলোর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কোনো বিশাল ক্যাশ সাপোর্ট বা নগদ ডলারের নিশ্চয়তা না পেলেও, ১ বিলিয়ন আরএমবি অনুদান, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তির ফ্রেমওয়ার্ক এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। সম্পর্কের স্তরকে ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করা এবং জিডিআই-তে সম্পৃক্ত হওয়া ঢাকার কূটনৈতিক দিগন্তকে প্রসারিত করেছে ঠিকই, কিন্তু একই সাথে তা ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আইনি চুক্তি না হওয়া এবং বেইজিংয়ে রাত্রিযাপন না করে প্রধানমন্ত্রীর একদিন আগে ঢাকা ফেরার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে সবসময় এক সুনির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই সফরের অর্জনগুলোকে দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে কতখানি বাস্তবায়ন করা যায় এবং পরাশক্তিগুলোর তীব্র স্নায়ুযুদ্ধের মাঝে নিজেকে কোনো ব্লকের দাবার ঘুঁটি না বানিয়ে কীভাবে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্তরে সুরক্ষিত রাখা যায়, সেই কূটনৈতিক দূরদর্শিতার ওপর।
(লেখক একজন কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, অনুবাদক ও সম্পাদক)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত