হরমুজ প্রণালীতে শনিবার (২৭ জুন) একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর থেকেই এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় দেশ দুটির মধ্যে চলমান প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মোট ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছিল। কিন্তু রবিবারের (২৮ জুন) হিসাব অনুযায়ী, সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১২টিতে। অথচ গত ১৫ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর হরমুজ হয়ে জাহাজ চলাচল মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কেপলারের তথ্যমতে, গত বুধবার একদিনেই ৭০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছিল।
ইরান অননুমোদিত শিপিং লেন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিলেও, জাহাজগুলো সপ্তাহজুড়ে প্রণালীর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে চলাচল অব্যাহত রেখেছে। কেপলারের মালিকানাধীন ওয়েবসাইট ‘মেরিন ট্র্যাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে একটি জাহাজে আঘাত হানার পরও বেশ কয়েক ঘণ্টা ওমানি জলসীমা দিয়ে জাহাজগুলো চলাচল করে। তবে এরপরই ট্র্যাফিকের গতি শ্লথ হয়ে আসে। উল্লেখ্য, এই ওয়েবসাইটটি কেবল সক্রিয় ট্রান্সপন্ডার থাকা জাহাজগুলোর ওপর নজর রাখে; ফলে অনেক জাহাজ সংকেত বন্ধ রেখে চলাচল করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহান্তের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। গত সপ্তাহে গালফে আটকা পড়া নাবিকদের উদ্ধারে জোর দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে প্রণালী দিয়ে বের হয়ে যাওয়া জাহাজের সংখ্যা বেশি ছিল। কিন্তু এই সপ্তাহান্তে উল্টো গালফে প্রবেশ করা জাহাজের সংখ্যা বহির্গমনকারী জাহাজের চেয়ে বেশি দেখা গেছে। ওমান সাগরে একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিচালিত ১১ হাজার নাবিক উদ্ধারের অভিযান স্থগিত করা হয়।
‘এইচএফআই রিসার্চ’-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর এক পোস্ট অনুযায়ী, রবিবার চারটি ট্যাঙ্কার এবং একটি কন্টেইনার জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় ওমানি করিডোর দিয়ে গালফে প্রবেশ করেছে। তবে কেপলার জানিয়েছে, রবিবারের সেই করিডোর দিয়ে গালফ থেকে কোনো জাহাজ বের হয়ে আসেনি। স্যাটেলাইট ইমেজারির মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে তথ্য যাচাইয়ের পর এই সংখ্যার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার ইরান জানিয়েছে, তারা প্রথমবারের মতো ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের ‘ট্রানজিট ফি’ বা মাশুল মেনে নেবে না।
সূত্র: জিও নিউজ