কেরানীগঞ্জে ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে শিক্ষার্থী ও অংশীজনদের যৌথ ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) STIRC প্রকল্প, ঢাকা জেলা কার্যালয় এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই বিশেষ কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন কর্তৃপক্ষের সচিব শ্রাবস্তী রায়। কেরানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং ঢাকা জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, শুধুমাত্র সরকার বা কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে দেশের সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে খাদ্য নিরাপদতা ও পুষ্টি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের মূল মঞ্চে সেই প্রতিযোগিতার সমাপনী ও চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
সেমিনারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকার নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি অফিসার অংশ নেন। বক্তারা টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আয়মনা খাতুন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুব উল ইসলাম এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী মেহেরুন তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। নিরাপদ খাদ্যের মতো জীবনঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্কুল পর্যায়ে এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়মিত গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।