দুমকির পায়রা নদীতে মিলছে না ইলিশ, বিপাকে জেলেরা

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার তিন দিক বেষ্টিত পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে চলতি মৌসুমে ইলিশের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দিনভর নদীতে জাল ফেলেও অধিকাংশ জেলে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে প্রায় খালি হাতে ঘরে ফিরছেন। এতে উপজেলার বিভিন্ন জেলে পল্লীতে নেমে এসেছে চরম হতাশা। মাছ বিক্রির আয় না থাকায় জেলে পরিবারগুলো আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ ও অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা নদীতে অবস্থান করেও পর্যাপ্ত ইলিশ মিলছে না। জ্বালানি, বরফ ও অন্যান্য খরচ বহন করেও অনেক সময় মাছ বিক্রির টাকায় সেই ব্যয়ও উঠছে না। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাংগাশিয়া ইউনিয়নের আলগী জেলে পল্লীর মো. বশির বিশ্বাস, রাজগঞ্জ এলাকার আবুল কালাম এবং আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের জেলে আব্দুল বারেক হাওলাদার বলেন, নদীতে এখন ইলিশের দেখা খুবই কম। সারাদিন জাল ফেলেও অধিকাংশ সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। এতে পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের লেখাপড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি মহাজনের দাদন ও বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

জেলে ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পায়রা নদীর বিভিন্ন অংশে নাব্যতা কমে গিয়ে চর জেগে ওঠায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নদীর গতিপথ ও স্রোতের পরিবর্তনের কারণেও মাছের বিচরণ কমে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন। ফলে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত ইলিশ মিলছে না।

এদিকে নদীতে মাছের সংকটের কারণে শুধু জেলেরাই নয়, মাছ পরিবহন, বরফকল, আড়ত ও খুচরা ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের আয়ও কমে গেছে। স্থানীয়ভাবে ইলিশনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ার বিষয়টি মৎস্য বিভাগ পর্যবেক্ষণ করছে। নদীর নাব্যতা, স্রোতের পরিবর্তন, আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে মাছের বিচরণে প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত