খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, শেষ শ্রদ্ধায় বিশ্ব নেতারা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে, যেখানে বিদেশি অতিথি, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এ সময় পাঁচটি কফিন প্রদর্শন করা হয়। পরে খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হলে সাধারণ মানুষের ঢল নামে, শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন অনেকে।

চার মাসেরও বেশি সময় পর ৯ জুলাই তাঁর দাফনের প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। দীর্ঘ এ সময় মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

খামেনি নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর দেশটিতে তার জন্য কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোকপালন ও শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাবেক এই আয়াতুল্লাহর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হচ্ছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা রবিবার বিকেল পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন। আগামী ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার তাঁর নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, এই আয়োজনে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। ইরানে কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য এর আগে কখনও এত বড় পরিসরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

শুক্রবার প্রথম দিনেই মরহুম নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছেন ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় পণ্ডিত এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। পাশাপাশি ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও এই শোকযাত্রায় শামিল হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে তেহরানে এসে পৌঁছেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ঐতিহাসিক ও শোকাবহ মুহূর্তে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় দলমত, জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) ও রবিবার (৫ জুলাই) মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে মূল জানাজা ও বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে এই মহান নেতার দাফন সম্পন্ন হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত