মাঝআকাশে অল্পের জন্য বাঁচলেন ইরানি স্পিকার!

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা আর পর্দার আড়ালে চলছে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধ। এবার আর শুধু হুমকি-ধামকি নয়, একেবারে সরাসরি শীর্ষ ইরানি নেতৃত্বকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর গোপন ছক কষেছিল ইসরায়েল! টার্গেটে ছিলেন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম দুই মূল কারিগর- ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে সামনে এসেছে গত এপ্রিল মাসের এমনই এক রুদ্ধশ্বাস ও রোমাঞ্চকর তথ্য, যা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের সম্ভাব্য ‘হিটলিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করেছিল। সেই তালিকায় যখন ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখনই বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনের কাছে তথ্য চলে আসে।

আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেই নড়েচড়ে বসে। ওয়াশিংটন খুব ভালো করেই জানতো, এই ধরনের কোনো হাই-প্রোফাইল গুপ্তহত্যা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে শুধু নতুন করে যুদ্ধই শুরু হবে না, বরং চলমান সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এক নিমেষে ছাই হয়ে যাবে। এর ফলে ইরান, ইসরায়েল এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক অবিনাশী মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

বিপদ আঁচ করতে পেরে মার্কিন প্রশাসন কালবিলম্ব না করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক সরকারের মাধ্যমে তেহরানকে আগেভাগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়। একই সাথে তেল আবিবকে এই আত্মঘাতী পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকার জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন।

এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই গত এপ্রিল মাসে ঘটে যায় এক রোমহর্ষক ঘটনা। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বিমানযোগে ইরানে ফিরছিলেন স্পিকার গালিবাফ। কিন্তু মাঝআকাশেই হঠাৎ থমকে যায় সবকিছু!

ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হঠাৎ রাডারে টের পান, দেশের আকাশসীমার একদম কাছাকাছি অবৈধভাবে প্রবেশ ঘটেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের! মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। যেকোনো সময় গালিবাফের বিমানটিতে হামলা হতে পারে- এই আশঙ্কায় মাঝআকাশেই পাইলটকে বিমানের পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়। তীব্র উত্তেজনা আর চরম ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে সে যাত্রায় বিমানটি পথ বদলে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসে।

এই ঘটনার পর তেহরান বুঝতে পারে যে পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার সময় যাতে কোনো ইরানি আলোচক বা দূতের ওপর হামলা না হয়, সেজন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠে।

নিজেদের আলোচকদের জীবন রক্ষার্থে ইরান তখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ বা সেফ প্যাসেজ দাবি করে। শুধু পাকিস্তানই নয়, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও ওয়াশিংটনকে চাপ দেওয়া হয় যাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার সময় ইসরায়েল কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ না নেয়।

অবশেষে আমেরিকার জোরালো হস্তক্ষেপ এবং এই গোপন ত্রিমুখী কূটনীতির কারণেই সে সময় মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পায়, এবং পর্দার আড়ালে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি প্রচেষ্টাগুলোকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত