সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

বন্যা ও বৃষ্টিতেও সুষ্ঠুভাবে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

দেশের বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ব্যতীত সারা দেশে এসএসসি পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

তিনি জানান, কুমিল্লায় তাৎক্ষণিক বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় ভুল থাকা দুটি প্রশ্নের বিপরীতে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মাধ্যমে দেশবাসীকে পরীক্ষা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ায় সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রথমে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

তিনি বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করছিলাম। ৬৪টি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুকূল পূর্বাভাস পাওয়ার পরই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।”

পরীক্ষার দিন সকালে হঠাৎ কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে নিরাপদে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, যেসব পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তাদের বাড়ি থেকে বিকল্প পোশাক এনে দেওয়া হয়। পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করা হলেও শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই একটি কেন্দ্র ছাড়া সারা দেশের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা দুর্যোগজনিত ঘটনা ঘটেনি বলে মাঠ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস হয়েছে। প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া অন্তত দুই বছর আগে শুরু হয়, যা আগের সরকারের সময়কার মডারেটররা সম্পন্ন করেছিলেন। ফলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরির সুযোগ ছিল না।

তবে ভুলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ওই দুটি প্রশ্নের বিপরীতে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন—জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে তারা প্রয়োজনে পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতও করতে পারেন। তবে মাঠ প্রশাসনের কাছ থেকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত