জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারেন শিক্ষকেরাই: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে শিক্ষকেরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। 

বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম 'ডিনস অ্যাওয়ার্ড' প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন, যা কার্যকর করতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, বরং কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের সমালোচনা করে ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, আগের সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, তবে বর্তমান সরকার সেই বিপর্যয় থেকে সফলভাবে বেরিয়ে এসেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে যেকোনো ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা করতে এবং সারা দেশে একটি আনন্দমুখর শিক্ষাপরিবেশ তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও সবসময় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

শিক্ষামন্ত্রী দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা এই ক্ষেত্রগুলোতে কিছুটা পিছিয়ে আছি। তাই ইতোমধ্যে সিলেবাস ও কারিকুলাম পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধার স্বীকৃতি দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সম্মাননা শিক্ষার্থীদের সমাজে অবদান রাখতে এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ছাত্রাবাস নির্মাণের বিষয়ে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও পরিসর বৃদ্ধি পেলে এটি একটি ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ 'ডিনস অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করা হয়। এর মধ্যে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ থেকে ২৯ জন, কলা অনুষদের ২১ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন এবং আইন ও চারুকলা অনুষদ থেকে ৩ জন করে শিক্ষার্থী এই গৌরবজনক পুরস্কার লাভ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত