ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের বাবলু মাঝির দোকান থেকে মানিক হাওলাদারের দোকান পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ১১ হাজার ৫৯১ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের একাংশ ভেঙে যাওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে সড়কটির সংস্কারকাজ গত ১০ জুন সম্পন্ন হয়। নতুন সড়ক চালু হওয়ায় এলাকাবাসী নির্বিঘ্ন যাতায়াতের আশা করেছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু মাঝি ও অন্যদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও কম্প্যাকশন না করা এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই সড়কটি এত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকার বাসিন্দা মাওলানা নুরুল করীম বলেন, কুতুবা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। বর্ষা মৌসুমে দ্রুত সংস্কার করা না হলে সড়কের আরও বড় অংশ ধসে পড়তে পারে, এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সড়ক প্রকৌশলী মাঈদুল ইসলাম বলেন, জলাশয়ের পাশ দিয়ে সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির ধারণক্ষমতা, ঢালের স্থিতিশীলতা, পানির কারণে মাটি ক্ষয়ের ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা বিবেচনায় রেখে নকশা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল, গাইড ওয়াল বা অন্যান্য প্রতিরোধমূলক কাঠামো রাখা হয়। তবে কোনো প্রকল্পে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল কি না, তা অনুমোদিত নকশা ও কারিগরি বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে।
সড়ক ধসের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশসহ পুরো সড়কটি টেকসই ও মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।