চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মামলা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকলের সুযোগ না পেয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষক-পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া। জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার অংশ হিসেবে ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে এমসিকিউ পর্ব শেষে ৩০৪ নম্বর কক্ষের কয়েকজন পরীক্ষার্থী প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তারা নকলের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা কঠোরভাবে তা প্রতিহত করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাইরে অবস্থানরত আরও একদলকে সঙ্গে নিয়ে বেলা ১টা ৫ মিনিটের দিকে কলেজের পকেট গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তারা কেন্দ্রে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সাতজন শিক্ষক এবং কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আহত হন। পরে পুলিশ ও অন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত