চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যায় ডলু নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মুহূর্তেই সব হারিয়েছেন সিএনজি চালক মোহাম্মদ নাসির। নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে তার একমাত্র বসতভিটা। জীবনের সব সঞ্চয়, ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কলাবাগান ফেরিঘাট এলাকার ডলু নদীর তীরের বাসিন্দা নাসির তার চার মেয়ে, দুই ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়িতেই বসবাস করতেন। বড় মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন।
কিন্তু ডলু নদীর ভয়ংকর ভাঙনে তাদের মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়টুকুও আর অবশিষ্ট নেই।
নাসির বলেন, বহু কষ্ট করে সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাই। একটু একটু করে যা গড়েছিলাম, সবই নদী নিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে সন্তানদের মানুষ করব- কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার বড় মেয়েকে চট্টগ্রাম বিদ্যালয়ে পড়া শুনা করিয়েছি। বাকি তিন মেয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে কলেজে পড়াশোনা করছে।
নাসির আরও বলেন, দুটি ছেলেকেই মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষ করছি। আমি আগে মসজিদের চাকরি করতাম। কিন্তু পরিবার বড় হওয়ায় দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। এই বন্যায় আমাকে শেষ করে দিয়েছে।
সমাজ সেবক জাহাঙ্গির হোসাইন বলেন, ডলু নদীর ভাঙন দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে এবং আরও অনেক পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন ও নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যায় ডলু নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। যেসব পরিবার সম্পূর্ণভাবে বসতভিটা হারিয়েছে, তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে।