কর্মস্থলে পুরুষ সহকর্মী শর্টস পরে গেলে কেন অস্বস্তি বোধ করেন জাপানি নারীরা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো জাপানেও এবার গ্রীষ্মের তাপদাহ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তীব্র গরমের সাথে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়াবিদেরা এ গ্রীষ্মে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সতর্কবার্তা দিয়ে একে 'কোকুশো-বি' বা প্রচণ্ড গরমের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গরমের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, সম্প্রতি মাত্র এক সপ্তাহেই তাপদাহের কারণে কয়েক হাজার মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং কর্মীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে রাজধানী টোকিওর স্থানীয় সরকার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। তারা প্রথাগত স্যুট ও টাইয়ের বদলে অফিসে টি-শার্ট, স্নিকার্স এমনকি শর্টস বা হাফপ্যান্ট পরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের পরিবেশ বিষয়ক বিভাগের মতে, চরম আবহাওয়ায় কর্মীদের পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। পোশাক যদি অনভিপ্রেত না হয়, তবে কাজের জায়গায় এতে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।

তবে নতুন এই শিথিল পোশাকনীতিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি নিয়ে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই সরকারি এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখলেও, একটি বড় অংশ এর বিরোধিতা করছেন। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের শর্টস পরার বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন।

পোশাকবিধি নিয়ে ওঠা বিতর্কের মধ্যে অন্যতম প্রধান বিষয় হলো বৈষম্য ও অস্বস্তি। বেশ কিছু চাকুরিজীবী অভিযোগ তুলেছেন যে, নিয়মটি নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি কঠোর, যেখানে পুরুষদের শর্টস পরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে অনেক নারী সহকর্মী জানিয়েছেন, পুরুষ সহকর্মীদের খোলা পা ও পায়ের লোম দেখা তাদের জন্য অস্বস্তিকর। এই অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতাকে সেখানে 'সুনেহারা' নামে অভিহিত করা হচ্ছে, যা মূলত অফিসে সহকর্মীর পায়ের লোম দেখে সৃষ্ট অস্বস্তিকে বোঝায়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক পুরুষ কর্মীও পা প্রদর্শন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সামাজিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে অনেকে এখন বিউটি ক্লিনিকগুলোতে গিয়ে বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন, যাতে অফিসে শর্টস পরে গেলেও দেখতে মানানসই লাগে।

কর্মক্ষেত্রে ক্যাজুয়াল পোশাক পরার এই সংস্কৃতি জাপানে একেবারে নতুন নয়। ২০০৫ সালে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে 'কুল বিজ' নামের একটি কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যেখানে হাফহাতা শার্ট পরার উৎসাহ দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে 'সুপার কুল বিজ' উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জাপানে জ্বালানির ওপর যে চাপ পড়েছে, তা সামলাতেই এই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত