প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতির ঘাটতিতে আটকে আছে পে-স্কেল

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ এএম

অর্থনৈতিক সংকট, রাজস্ব ঘাটতি এবং আইএমএফের সতর্কবার্তার কারণে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতির ঘাটতিতে আটকে আছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম পে-স্কেল। সরকার বেতন একবারে না বাড়িয়ে দুই ধাপে (প্রথমে মূল বেতন বা বেসিক এবং পরে অন্যান্য ভাতা) কার্যকর করার কথা ভাবলেও চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো ঠিক হয়নি।

পাঁচ বছর পরপর দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। তবে গত ১০ বছরে তা মানা হয়নি। ফলে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এর অর্থ সংস্থান চ্যালেঞ্জিং হলেও একাধিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা অন্তত সাড়ে ১৪ লাখ। নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তাদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ এর পরিমাণ এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। 

নতুন পে-স্কেল ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, যা জোগাড় করা বর্তমান রাজস্ব আয়ের তুলনায় কঠিন, যা বর্তমান ঘাটতি বাজেটে বিশাল চাপ তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করে বড় অংকের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহ তৈরি করবে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় দেশি বা বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে এখনো কাজ চলছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কমিশনের সুপারিশ এবং অষ্টম বেতন কাঠামোর ত্রুটিগুলো নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে।

কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি কারিগরি বিশ্লেষণমূলক সভার পর তাদের খসড়া মন্ত্রিসভায় পাঠাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্টের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

গেজেট প্রকাশে কিছুটা দেরি হলেও বর্ধিত বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই কার্যকর ধরা হবে এবং চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ তা পাবেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত