বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং এর সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার জন্য মূল সংকট চিহ্নিত করে প্রযোজকদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ আবীর চৌধুরী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের রুগ্নদশার পেছনে মূল কারণ প্রতিভা বা নতুন উদ্যোগের অভাব নয়, বরং প্রযোজকদের বিনিয়োগের আস্থার ঘাটতি। অতীতের প্রযোজকেরা চলচ্চিত্র থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়েই সংসার চালাতেন এবং সেই মুনাফা দিয়ে পুনরায় সিনেমা নির্মাণ করতেন। কিন্তু বর্তমানে চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত না আসায় এই শিল্পে নতুন মূলধনের পুনঃপ্রবাহ থমকে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো চলচ্চিত্রকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশেও একই সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তার জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় চলচ্চিত্র অর্থনৈতিক রোডম্যাপ। কেবল নিছক বিনোদন নয়, চলচ্চিত্রকে একটি বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে। সিনেমা হল ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, টিকিট বিক্রির রাজস্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা এবং ওটিটি ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে না পারলে এই সংকট কাটবে না।
পারভেজ আবীর চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, কোনো ভবিষ্যৎহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে নতুন প্রতিভারাও দীর্ঘমেয়াদে আসতে চাইবে না। তাই মূল সমস্যার চিকিৎসা না করে কেবল উপসর্গ নিয়ে আলোচনা করলে কোনো লাভ হবে না। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে এসে অবিলম্বে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যে দিন একজন প্রযোজক তার বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া ও ন্যায্য মুনাফার বিষয়ে নিশ্চিত হবেন, সে দিনই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প আবার তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে পাবে।
টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় নতুন খাবারের মেন্যু ও ‘ফিমেল জোন’ উদ্বোধন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ