৫৯ বছর বয়সে গোল করে তাক লাগালেন ‘কিং কাজু’

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

ফুটবলের দুনিয়ায় ৩৫-৪০ বছর বয়সীদেরই ‘বুড়ো’র কাতারে ফেলা হয়। আর বয়সটা যদি হয় ষাট ছুঁইছুঁই সেখান কোচিং কিংবা ধারাভাষ্যের টেবিলে থিতু হন বা বেছে নেন অবসর জীবন। তবে বুড়ো বয়সের এসব সম্ভাব্য কাজগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৫৯ বছর বয়সে এসেও পেশাদার ফুটবলে গোলের ফোয়ারা ছোটোচ্ছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি জাপানি ফুটবলের অবিসংবাদিত সম্রাট, কাজুয়োশি মিউরা, বিশ্বজুড়ে যিনি সমাদৃত 'কিং কাজু' নামে।

ক্যারিয়ারের অবিশ্বাস্য ৪২তম মৌসুম পার করতে চলা এই ফরোয়ার্ড ষাটের কোঠায় পা রাখতে চলেছেন বুটজোড়া পায়ে রেখেই। জাপানের ঐতিহ্যবাহী এমপেরর্স কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে ফুকুশিমা ইউনাইটেডের হয়ে তাক লাগানো এই গোল করেন তিনি। ম্যাচে ইওয়াকি ফুরুকাওয়াকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফুকুশিমা।

খেলার ৫২ মিনিটে দলের আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর দারুণ এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন 'কিং কাজু' খ্যাত এই অভিজ্ঞ তারকা। এই গোলের মাধ্যমে ৫৯ বছর ১৪৯ দিন বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জালের দেখা পেলেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে সুজুকা পিজির হয়ে শেষ গোলটি করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। গোল করার পর সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন তিনি, আর এর ঠিক তিন মিনিট পরেই তাকে বদলি হিসেবে তুলে নেন কোচ।

ফুটবলের প্রতি মিউরার এই অন্তহীন আবেগ আর লড়াইয়ের গল্পটা একদিনের নয়। কিশোর বয়সে পকেটে স্বপ্ন আর বুকভরা সাহস নিয়ে একাকী ব্রাজিলে পাড়ি জমানোর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তার রূপকথার পথচলা। ১৯৮২ সালে বয়সভিত্তিক ফুটবলে শুরু করার পর ১৯৮৬ সালে ফুটবলের বরপুত্র পেলের বিখ্যাত ক্লাব সান্তোসের মূল দলে নাম লেখান তিনি। এরপর ব্রাজিলের জুভেন্টাস-এসপি, পালমেইরাসের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের পাঠ চুকিয়ে জাপানে ফিরে ইয়োমিুরি এফসি, ইতালির জেনোয়া, ক্রোয়েশিয়ার ডায়নামো জাগরেব থেকে শুরু করে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

জাপান জাতীয় দলের জার্সিতে তার রেকর্ডও দারুণ সমৃদ্ধ। ১৯৮৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশকে ৮৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি গোল করেছেন ৫৫টি। কিন্তু কাসেলের এই নায়কের নামের পাশে আক্ষেপের এক দীর্ঘশ্বাসও রয়েছে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে জাপানকে প্রথমবার মূল পর্বে তোলার কারিগর হওয়া সত্ত্বেও তখনকার কোচ তাকে চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছিলেন। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আজও সেটি জাপানি ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম 'অমার্জনীয় বেদনা' হিসেবে স্মরণ করা হয়, যার ফলে বিশ্বমঞ্চে কখনো মাঠে নামা হয়নি দেশটির এই সর্বকালের সেরা তারকার।

তবে আন্তর্জাতিক আক্ষেপ ঘুচে গেছে তার ক্লাব ফুটবলের অবিরাম দৌড়ে। ২০১৭ সালে ৫০ বছর ১৪ দিন বয়সে জাপানি লিগে গোল করে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়া মিউরা এখনো থামেননি। জাপানের তৃতীয় স্তরের ক্লাব ফুকুশিমা ইউনাইটেডের সঙ্গে তার ধারের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৬০ বছর পূর্ণ করতে যাওয়া 'কিং কাজু' প্রমাণ করে চলেছেন, পেশাদার ফুটবলে বয়সের কোনো সীমানা নেই, আছে কেবল অদম্য জেদ আর ফুটবলের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত