ফরিদপুর

খাল খনন শেষে কোষাগারে কোটি টাকা ফেরত দিলেন দুই ইউএনও

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের তত্ত্বাবধানে ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার চারটি খাল খনন প্রকল্প শেষে মোট ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। 

ভাঙ্গা উপজেলায় খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ফেরত দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. মাহমুদুল হাসান এবং একইসাথে সদরপুর উপজেলায় খাল খনন শেষে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. শরীফ শাওন। 

এ ঘটনার পর সরকারি কাজে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলায় মানিকদহ ইউনিয়নের ৮ কিলোমিটার ও ঘারুয়া ইউনিয়নের ৬ কিলোমিটারসহ মোট ১৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন পায় ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরপর কাজের প্রকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে খাল খনন কর্মসূচি শেষ করেন। অতঃপর প্রকল্পের কাজ শেষে দেখা যায় ৬৪,৩৯,৯১৬ উদ্বৃত্ত থেকে যায়। পরে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে উক্ত টাকা ফেরত পাঠানো হয়। 

অপরদিকে, সদরপুর উপজেলায় লোহারটেক ব্রিজ হতে শ্রীরামদী বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবং দড়িকৃষ্ণপুর কাটাখাল ব্রিজ হতে ভূবেনেশ্বর নদ অভিমুখে সাড়ে ৪ কিলোমিটারসহ মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের কাজ করার অনুমতি পায় সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এই প্রকল্পের কাজ শেষে দেখা যায়, ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

উক্ত দুটি উপজেলা ভাঙ্গা ও সদরপুর এর চারটি খাল খনন প্রকল্প এর সর্বমোট ১ কোটি ৮০ হাজার ৫শ ৩৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

এদিকে উপজেলা দুটি নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে কর্মকর্তাদ্বয় জানান, খাল খনন এই কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত উদ্যোগে এই প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে খাল খনন কর্মসূচি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে নিজেকে ভালো হিসাবে পরিচয় করানো বা অন্য কোন কিছু হিসাব করে খাল খনন বাস্তবায়ন করা হয়নি। স্বচ্ছতার সাথে কাজ শেষ করে অতিরিক্ত নিয়ম অনুযায়ী সমুদয় টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে এর বেশি কিছু নয়।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ভাঙ্গা ও সদরপুরের খাল খনন প্রকল্প শেষে এক কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। বিএনপি সরকারের আমলে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। অতীতে যেভাবে লুটপাট হয়েছে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই সব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত