রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক শুরু

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎপরতা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্পিকারের কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারদের পাশাপাশি ইসি সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

মূলত অসুস্থতার কথা জানিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকেই দেশের সর্বোচ্চ এই পদে নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সামনে আসে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে। আর এই সময়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক বিষয় চূড়ান্ত করতেই সংসদ সচিবালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই গণনায় আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে ইসিকে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদের আগামী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সাথে এই আলোচনার পরই সুবিধাজনক সময় দেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তপশিল ঘোষণা করবে কমিশন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নেন। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন, কারণ একটি আসনের গেজেট এখনও প্রকাশিত হয়নি। ইসি কর্তৃক ঘোষিত তপশিলে মনোনয়নপত্র জমা, তা যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটের তারিখ উল্লেখ থাকবে। ভোটগ্রহণ পর্বটি অনুষ্ঠিত হবে সরাসরি সংসদ অধিবেশন কক্ষে।

আইন অনুযায়ী যেকোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং অন্য আরেকজনকে সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। নির্বাচনে যদি একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করবেন। সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকেই সিইসি বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করবেন। তবে ভোটে সমতা তৈরি হলে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত