গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান শফিকুর রহমানের

‘এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না’—জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শফিকুর রহমান

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের জন্য দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র শুধু সরকার গঠনের সাময়িক কোনো প্রক্রিয়া নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি। গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকলে একটি সমাজ স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। জনগণ ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। ইতিহাসজুড়ে স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিভিন্নভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছে।

তিনি বলেন, এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। যে কোনো মূল্যে জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধনির্ভর বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে গণতন্ত্রকে সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় দলটি কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জাতিকে আর কোনোভাবেই গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো অভিশাপের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনকে সংকীর্ণ দলীয়করণ থেকে মুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

এ ছাড়া ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিমুক্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সত্যিকারের গণমুখী করার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির।

বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, ন্যায্য নাগরিক সুবিধা আদায় এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত