টরন্টোতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে গুলিবর্ষণ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ পিএম

কানাডার টরন্টো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে অন্তত একটি গুলি ছোড়া হলেও এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত চার মাসে একই স্থানে এটি দ্বিতীয়বারের মতো গুলির ঘটনা।

টরন্টো পুলিশ জানায়, কনস্যুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে যান। পরে ভবনের সামনে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয় এবং ভবনের সামনের অংশে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে একটি সাদা রঙের সেডান গাড়িকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। গাড়িটিকে কিছু সময় ধাওয়া করা হলেও অতিরিক্ত গতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১০ মার্চ একই কনস্যুলেট ভবনে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনার আগে টরন্টো এলাকায় তিনটি পৃথক ইহুদি উপাসনালয়ে (সিনাগগ) গুলির ঘটনা ঘটে। এরপর মার্কিন ও ইসরাইলি কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করে কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে কানাডার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, কানাডায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে টরন্টো কনস্যুলেটের কিছু নিয়মিত কনস্যুলার সেবা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'আমাদের কনস্যুলেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।'

টরন্টো পুলিশের উপপ্রধান ফ্রাঙ্ক বাররেডো বলেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই হামলার উদ্দেশ্য বা এটি আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, 'তদন্তের এই পর্যায়ে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যা এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আবার কিছু বিষয় এখনও আমাদের কাছেও স্পষ্ট নয়।' 

এদিকে, অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড কনস্যুলেটের সামনে গুলির ঘটনা এবং সপ্তাহান্তে টরন্টোতে ইহুদিদের মালিকানাধীন দুটি বেকারিতে ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'গত কয়েক দিনে টরন্টোতে ঘটে যাওয়া গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আমি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। এর মধ্যে রয়েছে সপ্তাহান্তে দুটি ইহুদি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং আজ সকালে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে গুলির ঘটনা। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে। আমি আশা করি, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত