সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকর করেছে ইরান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন জানায়, আবোলফাজল সেপাহি ও আমির-হোসেইন সাফারি নামের দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড মঙ্গলবার সকালে কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, মধ্য ইরানের ইসফাহান প্রদেশের মালেকশাহর শহরের একটি জনসমাগমস্থলে স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মিজান অনলাইনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। পরে কয়েকজন পুলিশকে সড়কের সাইনবোর্ডে বেঁধে টেনে নেওয়া, তাদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তারা দোষী সাব্যস্ত হন।
তাদের বিরুদ্ধে 'মোহারেবে' (আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা), অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে জনমনে ভয়-ভীতি সৃষ্টি এবং দেশের জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করার অভিযোগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি সেই আন্দোলন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ দায়ী। তবে বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছিল।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
এরপর থেকে সংঘাত এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইরানে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর আগে, গত ১৯ জুলাই একই ধরনের অভিযোগে ইসফাহান প্রদেশে আরও দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যায় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে চীনের পরেই ইরানের অবস্থান।
