অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলার অন্যতম আসামী, বিতর্কিত ব্যবসায়ী শাহজাহান বাবলু বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। কুমিল্লার লাঙ্গলকোটের স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই ব্যবসায়ী ভোল পাল্টে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া তাকে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই নামে কাউকে আমি চিনি না। তার সম্পর্কে জানি না।
শাহজাহান বাবলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা, কুমিল্লা জেলা ও লাঙ্গলকোট উপজেলা কমিটির সদস্য। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অন্যতম সহযোগি তিনি। বাবলু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে বিদেশে পাচার করে। তার স্ত্রী, সন্তান আমেরিকায় এবং তিনি নিজে দুবাইয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন।
বর্তমানে কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের ছাড়াতে আদালত প্রাঙ্গণে দৌড়ঝাপ করছেন। গত ২২ জুলাই তাকে হাইকোর্টে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, তিনি এখন ভোল পাল্টে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই নামে কাউকে আমি চিনি না। তার সম্পর্কে জানি না।’
শাহজাহান বাবলুর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলা হওয়ার পর তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান এবং দুবাইয়ের অভিজাত জুমেইরা এলাকায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সেখানে বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন। সেখানে তার 'পুণ্য গোল্ড জুয়েলারি ট্রেডিং', 'পুণ্য জেনারেল ট্রেডিং' ও 'পুণ্য ফুডস্টাফ ট্রেডিং' নামের বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে।
বাংলাদেশের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় তিনি একজন পলাতক আসামি। বাংলাদেশ ব্যাংক তার ঋণখেলাপির তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে দেওয়া সম্মানসূচক 'রেমিট্যান্স পদক' আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ও প্রত্যাহার করেছে। তবে দুবাই থেকে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি নিজেকে পলাতক নন বলে দাবি করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বৈধভাবে ব্যবসা করছেন বলে উল্লেখ করেন। যদিও দেশের ব্যাংকগুলোতে তার শত কোটি টাকার খেলাপি ঋণের প্রমাণ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে করা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ২৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের মামলার তদন্ত সিআইডি ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চালিয়ে যাচ্ছে। ২৩৮ কোটি টাকা 'আত্মসাতের' তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এসবি এক্সিম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহজাহান বাবলু ও চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা পাচারের মামলা হয়েছিল ২০১৯ সালে। ২০১৯ সালে তাকে সিআইপি পুরষ্কার দেওয়া হয়। তবে ঋণ খেলাপীর তথ্য গোপন করায় তার সিআইপি পদ বাতিল করা হয়।
উল্লেখ্য বাংলাদেশি এ ব্যবসায়ী থাকেন দুবাইয়ের জুমেইরা এলাকায়। বিএমইটি’র কার্ড নিয়ে ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসেন তিনি। এরপর দুবাইতে গড়ে তোলেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পুণ্য গোল্ড জুয়েলারি ট্রেডিং এলএলসি, পুণ্য জেনারেল ট্রেডিং ও পুণ্য ফুডস্টাফ ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে বাড়তে থাকে তার ব্যবসা-বাণিজ্য। একপর্যায়ে সিঙ্গাপুরেও বাড়ান ব্যবসার পরিধি। পাশাপাশি সার উৎপাদন, কীটনাশক ও বীজ সরবরাহসহ দেশেও বিস্তার পায় তার বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে ২০১১ সালেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মতিঝিল থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছিল। দীর্ঘদিন তদন্তের পর দুদকের দেওয়া রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই মামলা দুটি খারিজ করে দেন।
‘প্ল্যান বি’ বলে কিছু নেই : রাভিনা ট্যান্ডন