মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দেওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের দুনিয়াতেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন লিওনেল মেসি। মাঠের মতো মাঠের বাইরেও এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।
তারই সূত্র ধরে হলিউডের বড় বড় সুপারস্টারদের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের শুটিং করতে গিয়েও তার নাগাল পাওয়া যে কতটা কঠিন এবং তার জন্য কতটা কড়া নিয়ম মেনে চলতে হয়, সম্প্রতি পর্দার পেছনের সেই কৌতূহলী তথ্য জানালেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা উইল ফেরেল।
মার্কিন জনপ্রিয় ‘দ্য ড্যান প্যাট্রিক শো’-তে এসে ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ডের মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক ব্যস্ততার এক দারুণ গল্প শুনিয়েছেন ফেরেল। লস অ্যাঞ্জেলেস ফুটবল ক্লাব (এলএএফসি)-এর সহ-মালিক এই অভিনেতা জানান, নিজে সামনাসামনি মেসির দেখা না পেলেও, পটেটো চিপস ব্র্যান্ড ‘লেজ’-এর একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার সুবাদে অন্য কমেডি তারকা স্টিভ কারেলের কাছ থেকে মেসিকে নিয়ে ঠিক কী কী নিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়, তা জানতে পেরেছেন।
ফেরেল জানান, ক্যামেরার সামনে বিশ্বজয়ী এই তারকার পারফরম্যান্স ধারণ করার সময়টা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। হলিউডের শুটিংয়ে সাধারণত যেভাবে দেরি করা বা বারবার রিটেক নেওয়ার সুযোগ থাকে, এখানে তার কোনো বালাই নেই। কিংবদন্তি এই ১০ নম্বর তারকা সেটে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই টেকনিক্যাল টিমের ওপর নিখুঁত কাজ দ্রুত শেষ করার চরম চাপ তৈরি হয়।
সেটের সেই উত্তেজনাকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উইল ফেরেল বলেন, ‘আমি স্টিভ কারেলের সাথে কথা বলেছি, যিনি মেসির সাথে দেখা করেছেন। আমি ‘লেজ’ পটেটো চিপসের ডেসমেস্টিক ক্যাম্পেইনে ছিলাম, আর স্টিভ ছিলেন ফরেন ক্যাম্পেইনে। দৃশ্যতই মেসি সেখানে ছিলেন এবং মেসির একটি নিয়ম রয়েছে: যখন তিনি সেটে আসেন, আপনি মেসির সাথে মোটে ৩০ মিনিট সময় পাবেন, ব্যাস এটুকুই।’
এরপর মেসির ‘ভামোস’ হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত নিয়ে কিছুটা রসিকরা করে ফেরেল আরও বলেন, ‘তাই মেসির সাথে সব শট দ্রুত তুলে নেওয়ার জন্য সেখানে একরকম হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যেত; অন্যথায়, তিনি আর থাকতেন না। একদম ‘ভামোস’ (উধাও বা চলে যাওয়া)!’
হলিউডের শুটিংয়ে সাধারণত নানা ধরনের বিরতি, রিটেক বা দীর্ঘ প্রস্তুতির সুযোগ থাকলেও মেসির ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্যামেরার সামনে আসার আগে থেকেই টেকনিক্যাল টিমকে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রস্তুত থাকতে হয়, যেন এক মুহূর্তও নষ্ট না হয়। বিশ্ব ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তির বাণিজ্যিক মূল্যের আকাশচুম্বী চাহিদার কারণেই ব্র্যান্ডগুলোকে তার এই নিখুঁত ও মাপা সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। এমএলএসে নাম লেখানোর পর মেসির গ্লোবাল ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা তাকে আন্তর্জাতিক বিপণন ক্যাম্পেইন-গুলোর সবচেয়ে চাহিদার মুখে পরিণত করেছে। আর সে কারণেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন ৩০ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত উইন্ডোর কথা মাথায় রেখেই প্রতিটি শট নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করতে হয়।
২০২৭ বিশ্বকাপে বড় স্কোয়াডের দাবি অস্ট্রেলিয়ার