চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থল এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন। দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা এই ঐতিহাসিক স্থানটি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রথম সমাধিস্থলকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে আধুনিকায়ন করা হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলাস্থ জিয়ানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলে নেতাকর্মী এবং জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি একথা বলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে সমাধিস্থলটি সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা হবে। এতে নতুন প্রজন্ম শহীদ জিয়া ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে জিয়াউর রহমানকে রাঙ্গুনিয়ার এই স্থানে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে স্থানান্তর করা হলেও এই প্রথম সমাধিস্থল ইতিহাসের অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন নানা কারণে এই ঐতিহাসিক স্থানটি অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে শামীম বলেন, এমনকি বহু বছর সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্যও এখানে অবাধে আসার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ আবারও এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন, যা প্রমাণ করে এই স্থানটির প্রতি জনগণের আবেগ ও গুরুত্ব আজও অটুট রয়েছে। ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের সম্পত্তি নয়; ইতিহাস একটি জাতির সম্পদ। তাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলকে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই স্থানকে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে একটি নান্দনিক ও দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধে পরিণত করা হবে। এখানে গবেষক, শিক্ষার্থী এবং ইতিহাস-অনুসন্ধানীদের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আব্বাস, নাজমুল মোস্তফা আমিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিএনপির সভাপতি প্রফেসর কুতুব উদ্দীন বাহার, সাবেক সভাপতি শওকত আলী নূর, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সাবেক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, মেজবাহ উদ্দীন জাহেদ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সদস্য প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দীন রাজু, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসীম, সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সহ সম্পাদক আলম খান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুদ্দিন সবুজ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফিরোজ প্রমুখ।
