ইনফান্তিনোকে হটিয়ে খেলাইফিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট দেখতে চায় ইউরোপ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

ফিফা প্রেসিডেন্টি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রভাবশালী শীর্ষ কর্তারা পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফিকে ভাবছেন। টেলিগ্রাফ স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামী বছরের ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টসের চেয়ারম্যান খেলাইফিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা।

সম্প্রতি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের স্বত্ব বিক্রির একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা সামনে এনে ফুটবলাঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছেন ইনফান্তিনো। এই পরিকল্পনার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যোগসূত্র থাকার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এর প্রতিবাদে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তাদের সদস্য দেশগুলোকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছে। বৈঠকটিতে টুর্নামেন্ট বয়কট কিংবা ইনফান্তিনোকে পদচ্যুত করার মতো চরম পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এমনকি উয়েফার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ট্রাম্প বা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ছাড়া যে কারও প্রার্থিতাকে তিনি সমর্থন করবেন।

তবে ইনফান্তিনোকে সরানোর এই উদ্যোগে বড় বাধা খোদ খেলাইফি নিজেই। ফিফা প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো আগ্রহ তাঁর নেই জানিয়ে ৫২ বছর বয়সী এই কর্মকর্তার এক প্রতিনিধি বলেন, 'ফিফা সভাপতি পদ নিয়ে নাসেরের কোনো পরিকল্পনা বা আগ্রহ নেই। তিনি ইউরোপীয় ও বিশ্ব ফুটবলের সংস্থাগুলোকে সাধারণভাবেই সমর্থন জানিয়ে যাবেন।'

সুপার লিগ ভেস্তে যাওয়ার পর খেলাইফি ‘ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস’ (ইএফসি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং উয়েফা নির্বাহী কমিটির দীর্ঘদিনের সদস্য হিসেবে বহাল আছেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সম্প্রচার স্বত্ব থাকা ‘বিইন মিডিয়া গ্রুপ’-এরও প্রধান তিনি।

ইনফান্তিনোর সঙ্গে নাসের আল খেলাইফি

বিশ্বকাপ বিক্রি করার এই হুটকারী প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইএফসি এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, বিশ্বজুড়ে ৮৫০টিরও বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করলেও এই বিশাল সিদ্ধান্ত সম্পর্কে গণমাধ্যমের খবর দেখে জানতে পেরেছে তারা। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা অতীতেও অত্যন্ত কঠিন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের অধিকাংশের সমর্থন প্রয়োজন, যার মধ্যে ইউরোপীয় দেশ মাত্র ৫৫টি। নাসের আল-খেলাইফি মধ্যপ্রাচ্যের হওয়ায় নীতিগতভাবে বিশ্বজুড়ে সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ কেন্দ্রিক বিতর্ক ও মানবাধিকার ইস্যুতে তাঁর প্রার্থিতা ঘিরেও আলোচনা থেকে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত