দেশের অনলাইন চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। একটি পদের বিপরীতে গড়ে ২০১ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করছেন। স্বাভাবিক সময়ে এ সংখ্যা ১৫৯ থেকে ২৩৫ জনের মধ্যে থাকলেও অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে তা আরও বেড়ে যায়। করোনা মহামারির সময় একটি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২৮৭ জনে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘লেবার মার্কেট টাইটনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিগেট শকস: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশস লার্জেস্ট অনলাইন জব পোর্টাল’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে আসে।
অনলাইন চাকরির পোর্টাল বিডিজবসের ১০ বছর ৬ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির হিসেবে ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হকের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক আতনু রাব্বানী।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে অনলাইন চাকরির বাজারে গড়ে ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়ে। একই সময়ে গড়ে ৩ হাজার ৬৪৬টি পদ খালি ছিল এবং নতুন করে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ১ হাজার ১৫৪টি। অর্থনৈতিক সংকট বা বড় ধরনের ধাক্কার সময়ে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়।
বিআইডিএস জানায়, করোনা মহামারির সময় লকডাউনের কারণে নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি ৭০ দশমিক ২ শতাংশ এবং খালি পদের সংখ্যা ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়। ফলে প্রতি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৭৩ জন থেকে বেড়ে ২৮৭ জনে পৌঁছায়। প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সুরক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে করোনা-পরবর্তী সময়ে অনলাইন শ্রমবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় ৯ দশমিক ৫ মাস সময় নেয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণালব্ধ তথ্য সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমবাজারের বাস্তব চিত্র, কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং নীতির প্রভাব নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার তথ্য গোপন বা বিকৃত করার নীতি অনুসরণ করে না। বাস্তব পরিস্থিতি যেমন, তেমনভাবেই তা তুলে ধরতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় নীতিগত সংশোধন বা কোর্স কারেকশন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি সংকট সমাধান অপরিহার্য। এ কারণে আমদানিনির্ভর নীতির পরিবর্তে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিদেশি দক্ষ প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েও গ্যাস উত্তোলনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
এডিপি নিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান এডিপি প্রস্তুতের সময় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রণয়নাধীন পাঁচ বছরব্যাপী উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলপত্রের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য করার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না। সেই কারণে বাজেট ঘোষণার পরও প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকারের ১৮০ দিন অর্থাৎ ১৭ আগস্টের আগেই আমরা এই কাজ শেষ করতে চাই। তখন এক ধরনের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা দাঁড়াবে, যা সরকারের ইশতেহার ও কৌশলপত্রের সঙ্গে অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
