টেকনাফে আসামি ধরতে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজমপাড়া এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামি মো. ইউনুসকে (৩০) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। 
 
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাজমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নারীকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
 
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে,, একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ইউনুসকে গ্রেপ্তার করতে এসআই দুলালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে যায়। আসামিকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাধা দিলে তাকে লাথি ও মারধর করা হয়। এতে তিনি পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
 
আহত নারীর মামা শ্বশুর রশিদ আহমেদ জানান, তিনি (আহত নারী) যে সন্তানসম্ভবা, সেটি বারবার বলার পরও অভিযানে আসা টেকনাফ মডেল থানার এসআই দুলাল কোনো মানবিকতা দেখাননি। পুরুষ সদস্যরা ঘরে ঢুকে জোরজবরি করেন এবং তাকে লাথি মেরে নির্মমভাবে আঘাত করেন। পেটে প্রচণ্ড আঘাত লাগায় গর্ভের সন্তান নিয়ে আমরা চরম আশঙ্কায় আছি। আমরা এই অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। 
 
জানতে চাইলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাজম পাড়া এলাকায় আসামি ধরতে গিয়ে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বরোচিত ও দুঃখজনক। 
 
অভিযুক্ত টেকনাফ মডেল থানার এসআই দুলাল বলেন, ফালতো কথা বলিয়েন না, না বুঝে না জেনে কথা বলিয়েন না। ধর্ষণ মামলার আসামি আটক করতে গিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে আসামির লোকজন। 
 
অভিযোগের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের আজম পাড়া এলাকায় ধর্ষণ মামলার আসামি আটক করতে গিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশকে বির্তকিত করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।
 
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে দেখে আসামির পরিবারের সদস্যরা বাধা সৃষ্টি করেন এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। তবে কোনো গর্ভবতী নারীকে লাথি মারার অভিযোগ সত্য নয়, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 
 
এদিকে একজন আসন্ন প্রসবা নারীর ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত