ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরের আবাসিক এলাকায় দেড় ঘণ্টায় আটটি শক্তিশালী গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এ হামলায় এক নারী নিহত এবং অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন। সূত্র এপি নিউজ।
সোমবার (৩ জুলাই) জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, রবিবার সন্ধ্যায় চালানো এ হামলায় ৭১ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া শহরের চারটি জেলায় ২২টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিত গ্লাইড বোমা ব্যবহার করছে। সোভিয়েত আমলের এসব বোমায় আধুনিক নির্দেশনা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বোমায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার কেজি বিস্ফোরক বহন করা যায়, যা বিস্ফোরণের পর বড় বড় গর্ত সৃষ্টি করে। ইউক্রেনের কাছে এ ধরনের অস্ত্র মোকাবিলার কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।
এদিকে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, 'বিশ্বে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এখন আমাদের অংশীদারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানে আমাদের কী প্রয়োজন, ইউরোপও জানে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অস্ত্র মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যবহার হওয়া উচিত, গুদামে পড়ে থাকার জন্য নয়।'
তবে ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজস্বভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও গত শুক্রবার তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো আলোচনাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
জেলেনস্কি বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র শনাক্ত করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া ১৮১টি দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এর মধ্যে ১৬৩টি ড্রোন প্রতিহত বা বিভ্রান্ত করা সম্ভব হলেও ১৪টি ড্রোন ১৩টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
