নতুন শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা নতুন আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে ট্রাম্প এসব শুল্ক আরোপ করেছেন। সূত্র আল-জাজিরা। 

সোমবার (৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে দায়ের করা মামলায় গত মাসে ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর আরোপিত নতুন দ্বি-অঙ্কের শুল্ককে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে এমন এক সময়, যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়া ট্রাম্পের বহুল আলোচিত 'লিবারেশন ডে' শুল্কের পরিবর্তে চালু করা অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর প্রশাসন আবারও বেআইনিভাবে নতুন শুল্ক আরোপ করে পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।' 

মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক ও ওরেগন রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বা অ্যাটর্নি জেনারেল সবাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই মামলার সমালোচনা করে বলেন, অন্য দেশের অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এই শুল্ক আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

তার ভাষ্য, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে বা কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, উচ্চ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করবে। এ লক্ষ্যেই তিনি গত বছর কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্যভিত্তিক মার্কিন নীতি থেকে সরে এসে ব্যাপক শুল্ক আরোপের পথ বেছে নেন।

১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট ব্যবহার করে তিনি বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর দ্বি-অঙ্কের শুল্ক আরোপ করেন। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

তবে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানায়, আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। ওই রায়ের পর সরকারকে আমদানিকারকদের কাছ থেকে আদায় করা শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।

এরপর রাজস্ব ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ট্রাম্প প্রশাসন অস্থায়ীভাবে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তবে সেই ব্যবস্থার মেয়াদ ২৪ জুলাই মধ্যরাতে শেষ হয়ে যায়।

পরে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করা হয়। এই আইন মূলত অন্য দেশের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রণীত। জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত শুল্কই নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, আমদানির ওপর এমন ব্যাপক শুল্ক আরোপ বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রমের প্রকৃত সমস্যার কোনো সমাধান করবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত