১৯ মাসের মেহেরিমার জীবনে বাবা শুধুই এক ছবি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:০১ এএম

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট গুলিতে নিহত হন মেহেদী হাসান রাব্বি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মাগুরার প্রথম শহীদ রাব্বির কন্যা মেহেরিমা রাব্বি মায়ের কোল আলো করে আসে বাবার মৃত্যুর ৪ মাস ৭ দিন পর। এতদিনে সে আধো বোলে বাবা বলতে শিখেছে, তবে বাবার মুখ তার জন্য চিরদিনের জন্য পরিণত হয়েছে নিশ্চল আলোকচিত্রে। 

মেহেরিমার বয়স এখন ১৯ মাস। ছোট্ট শিশুটিকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছেন রাব্বির স্ত্রী রুমি খাতুন। বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া নিয়েও আছে আক্ষেপ। রুমি ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মৃত লাশের মতো বেঁচে আছি। ভালো লাগার কোনো জায়গা নেই। রাব্বি চলে গেছেন দুই বছর হয়ে গেল। আমার স্বামী হত্যার বিচার এখনো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, যত দ্রুত সম্ভব আমার স্বামী হত্যার বিচার করে দিন। শুধু আমার স্বামী নয়, সারা দেশে গণঅভ্যুত্থানে যত শহীদ হয়েছেন, প্রত্যেকটি হত্যার বিচার যেন দ্রুত করা হয়।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর রুমি বলেন, ‘আমি শিক্ষিত নারী। কোনোভাবে একটি সরকারি চাকরি পেলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম। অন্য জেলায় শহীদদের স্ত্রীরা সরকারি চাকরি পেলেও আমি পাইনি। আমার বাচ্চার দুনিয়ায় তার বাবা নেই। এই বাচ্চার দিকে খেয়াল রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

রুমি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রথম দিকে রাজনৈতিক দলের নেতারা খোঁজ নিলেও এখন আর কেউ খবর নেন না। এমনকি ঈদের সময়েও এমপি অথবা মন্ত্রীরা আমাদের খোঁজ নেননি। অথচ রাব্বির মতো শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে তারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। তবে প্রশাসনিক কোনো অনুষ্ঠান হলে আমাদের জানানো হয়।’

মাগুরা শহরের বরুনাতৈল এলাকার ময়েন উদ্দিন বিশ্বাস ও সালেহা বেগমের ছেলে রাব্বি। বাবা-মায়ের ছয় সন্তানের তিনি ছিলেন চতুর্থ। রাব্বি জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ততার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন মানবিক ও সমাজিক কাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন রাব্বি।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে মিছিল করার জন্য শহরের পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া মসজিদের সামনে অবস্থান নেয় স্থানীয় ছাত্র-জনতা। সমন্বয়করদের সঙ্গে পুলিশের সমঝোতা হয়েছিল, শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে শহরের চৌরঙ্গী মোড় হয়ে আবার মসজিদের সামনে ফিরে আসবে। সে অনুযায়ী মিছিল শুরু হয়। তবে ঢাকা রোডের নবগঙ্গা ব্রিজে ওঠার পর মিছিলকারীরা পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে মিছিলে গুলি ছোড়া হলে রাব্বির বুকের নিচে পাঁজর গুলিবিদ্ধ হয়। আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত