দুই বছর আগেও আট সদস্যের সংসারের ভরসা ছিলেন পিকআপচালক শাহিন। ভোরে কাজে বের হতেন, গভীর রাতে ফিরতেন। টাইলস রোডের ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন করেই চলত বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান ও ভাই-বোনের সংসার। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানোর পর বদলে যায় পুরো পরিবারের জীবন। আজও সেই শূন্যতা বয়ে বেড়াচ্ছে ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগরের এই পরিবার।
শাহিনের বাবা আবদুল মাজেদ বলেন, ছেলে হারানোর কষ্ট কোনোদিন মুছে যাবে না। তার ভাষায়, পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি আন্দোলনের সময় নিহতদের ঘটনার বিচার এবং শহীদ পরিবারের প্রতি আরও কার্যকর সহায়তার দাবি জানান।
মা মাজেদা খাতুন ছেলের স্মৃতি মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, শাহিনকে ঘিরেই ছিল পরিবারের সব স্বপ্ন। এখন সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ছেলের মৃত্যুর পর তারা গ্রামে ফিরে আত্মীয়ের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বয়সের ভার আর দারিদ্র্য তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
শাহিনের স্ত্রী স্বপ্না দুই সন্তানকে নিয়ে এখনও ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ভাড়া বাসায় থাকেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া অর্থ দিয়ে কিছু জমি ও একটি অটোরিকশা কেনা হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সংসারের খরচ, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মেয়ের বিয়ের ব্যয় সামলাতে গিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সহানুভূতি কমে গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল কিংবা বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত খোঁজখবর বা সহযোগিতা পান না বলেও তাদের অভিযোগ।
জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে বলে পরিবার জানালেও বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দাবি তাদের। পরিবারের সদস্যদের ভাষায়, তারা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, প্রিয়জনকে হারানোর ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের ধারাবাহিক দায়িত্বশীল ভূমিকা দেখতে চান।
দৌলতখানের দক্ষিণ জয়নগরের এই ছোট্ট বাড়িতে এখন আর শাহিনের পদচারণা নেই। আছে শুধু তার স্মৃতি, বৃদ্ধ মা-বাবার অশ্রু আর পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার যথাযথ মূল্যায়ন ও ন্যায়বিচার।
জুলাই শহীদ শাহিনের বাড়িতে এখন শুধু অপেক্ষা আর দীর্ঘশ্বাস
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
